বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত মামলায় নতুন ফর্ম ৬ (Form 6)-এর অনুমোদন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিহার SIR মামলার রায়ে নির্বাচন কমিশনের চালু করা নতুন Form 6 অনুমোদিত কি না, সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মামলার এক আবেদনকারী দাবি করেছিলেন, আদালত তার রায়ে জানিয়েছিল যে নতুন Form 6 অনুমোদিত নয়। অন্যদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) বক্তব্য, ফর্মটি অনুমোদিত। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিহার SIR মামলার রায়কে নতুন Form 6-এর অনুমোদন বা অননুমোদনের সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নতুন Form 6-এর অনুমোদন নিয়ে আবেদনকারী ও নির্বাচন কমিশনের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যেই আদালতের মত সামনে এল।
আগেই শীর্ষ আদালতে জানায়, ফর্ম ৬-এর পরিবর্তনে সুপ্রিম কোর্টের কোনও অনুমোদন ছিল না। সোমবার তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, বিহারের এসআইআর মামলার রায়ের সময়ে নতুন ফর্ম ৬-এর প্রসঙ্গ খতিয়ে দেখা হয়নি। কারণ, সেই মামলায় এর কোনও অস্তিত্বই ছিল না। ফলে কোনও অনুমোদন দেওয়া বা বিরোধিতা কিছুই করেনি আদালত। এর বৈধতার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি আদালত, স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন একটি বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিল, ফর্ম ৬ আবেদনের সঙ্গে ভোটারদের যে ঘোষণাপত্র দিতে হয়েছে, তা বহাল রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠছে, তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা করেছেন প্রিয়া মিশ্র নামে এক মহিলা। এদিন সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাকারীর আইনজীবী নতুন ফর্ম-৬ সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন। বলেন, “ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, (নতুন) ফর্ম-৬ আদালত অনুমোদিত নয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলেছে, এটি সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত। এই বিষয়টি আমি জানতে চাইছি।” বিচারপতি বাগচী বলেন, “নতুন ফর্ম ৬-এর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা শুধু এটুকুই বলেছি।” পরে ব্যাখ্যা দিয়ে বিচারপতি বাগচী বলেন, “প্রধান বিচারপতি আসলে বলেছেন— যখন বিহারে এসআইআর-এর রায় দেওয়া হয়েছিল, তখন মামলায় নতুন ফর্ম ৬-এর প্রসঙ্গই ছিল না। এর মানে এতে অনুমোদন দেওয়া বা না-দেওয়া— কোনওটাই করেনি সুপ্রিম কোর্ট। আমরা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
আরও পড়ুন: রাজনীতিতে সুপ্রিম কোর্টকে টানবেন না! বিরোধীদের মিছিলের আগেই মন্তব্য CJI-এর
আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যস্ত কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে মামলাটির শুনানি স্থগিত রেখেছে শীর্ষ আদালত। জানিয়েছে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটিও একই সঙ্গে শোনা হবে।















