মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আসলে ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছেন। তাঁকে ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এভাবেই মোদি- শাহকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরমহল থেকে অন্তত ২০০ জন আধিকারিক মারফত নিয়মিত অন্দরের খবর পাচ্ছেন রাহুল। এমনকী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও তাঁর বার্তা আদানপ্রদান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা। আর সেই জ্ঞানেশ কুমারকেই (Gyanesh Kumar) এবার রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: হাই কোর্টের ছাদে নমাজ পাঠের অভিযোগ, মামলায় আইনজীবীকে যুক্ত করার নির্দেশ

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মধ্যেই রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল নিশানা নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। রাহুলের ইঙ্গিত, ভোট সংক্রান্ত বিতর্কে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সামনে রেখে আসলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছে কেন্দ্র। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁর কথায়, “ইডি, সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের ২০০ অফিসার আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছেন।” বিদেশমন্ত্রক-সহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর থেকেও তথ্য পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। 

আরও পড়ুন: চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা খড়্গপুর পুরসভায়, গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভে বিজেপি

জ্ঞানেশকে উদ্দেশ করে রাহুলের বার্তা, রাজসাক্ষী হয়ে সত্যিটা সামনে আনুন। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারও তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে অবগত এবং এই সাংবাদিক বৈঠকও তিনি দেখছেন।

‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন যে সহজে থামছে না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল। সরকারের অন্দর থেকে তথ্য পাওয়ার দাবি অবশ্য ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন দলের নেতারা শাসক শিবিরের ভিতর থেকে খবর পাওয়ার কথা বলে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এবার সেই কৌশলেই রাহুল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার বার্তা দিতে চাইলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।