ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) যন্তর মন্তর ২.০ অভিযানের দিন (১০ অক্টোবর, শনিবার) পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং ধরপাকড়ের জেরে বিশ্বের কাছে মুখ পুড়েছে অমিত শাহের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের। সমালোচনা বাড়তেই সাফাই দিতে সাংবাদিক বৈঠক করল প্রশাসন। রবিবার দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদব (Neha Yadav) জানান, সিজেপির পূর্ববর্তী আন্দোলনে জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা নাকি নিয়ম মানেননি। সেই কারণেই এবারে সিজেপিকে (CJP) অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির পর এবার প্রধান বিচারপতি, সোমবার সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাহুল- খাড়গের
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধীদের আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। এসবের মধ্যেই ১০ অক্টোবর সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। দিল্লি বিমানবন্দরে নামার আগে প্লেন থেকে আটক করা হয়, আরশোলা দলের তিন শীর্ষ নেতৃত্বকে। তীব্র প্রতিবাদ করে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ায় সিজেপি সমর্থকেরা। যোগ দেয় বামেদের শাখা সংগঠনগুলিও। পুলিশের ধরপাকড়ে একের পর এক বিরোধী নেতৃত্বকে আটক করা হয়। এরপর শনিবার রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে CJP-র তরফে জানানো হয়, রবিবারও যন্ত্রের মন্তর অভিযান চলবে এবং জ্ঞানেশের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি থামবে না। সেই মতো রবিবার সকালে আরশোলা দলের সমর্থকরা রাস্তায় নামলে ফের পুলিশের অতিসক্রিয়তা দেখা যায়। যেভাবে আন্দোলনকারীকে টেনে নিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই তাতে গোটা বিশ্বের কাছে মুখ পুড়েছে মোদি সরকারের। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার পাল্টা সিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপালো রাজধানীর পুলিশ। এদিন ডিসি বলেন, “এর আগে যখন অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, CJP আইন মানেনি। তাদের জমায়েতে থাকা অনেকে পাথর ছুড়েছিলেন, অস্ত্র এনেছিলেন। এর ফলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল।” আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ধর্নার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি পুলিশের।
সিজেপি-র তিন শীর্ষনেতাকে আটক করার প্রসঙ্গে ডেপুটি কমিশনার নেহা বলেন, 'অভিজিৎ এবং তাঁর দুই সঙ্গী (আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস) ১০ অক্টোবর আটক হন কারণ তাঁরা জনপথ এলাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। অথচ ওই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।' তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতাকে বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য অফার করা হয়েছিল বলে নিজেদের দাবির সমর্থনে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। সেখানে দেখা গিয়েছে, একজন পুলিশ আধিকারিক দিপকেকে নিজের ফোন দিয়ে বাড়িতে যোগাযোগ করার কথা বললে তা মানতে চাননি তিনি। দিল্লি পুলিশের সাংবাদিক বৈঠকের প্রেক্ষিতে এখন ককরোচরা কী বলে সেটাই দেখার।















