দিনভর টানটান উত্তেজনার পর রবিবার সন্ধ্যায় ফের নতুন করে বিক্ষোভের আগুনে তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর কনট প্লেস চত্বর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এ দিন সকাল থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছিল। তবে অন্ধকার নামতেই প্রতিবাদের তীব্রতা আরও বাড়ে। সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের রাস্তায় নেমে জোরালো স্লোগান তুলতে শুরু করেন ছাত্র-যুবরা। একই সঙ্গে রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের সাত নম্বর গেটের সামনে শুরু হয় মহিলা বিক্ষোভকারীদের বড়সড় জমায়েত। মুহূর্তে শুরু হয়ে যায় পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। টেনেহিঁচড়ে প্রিজ়ন ভ্যান ও বাসে তোলা হয় আন্দোলনকারীদের। এসএফআই-এর দাবি, সন্ধ্যায় এই জমায়েত থেকেই তাদের নেত্রী ঐশী ঘোষকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস সংলগ্ন গোটা এলাকা ছিল কড়া পুলিশি ঘেরাটোপে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল এসএফআই, আইসা-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। সকালেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ঘিরে ধস্তাধস্তি বাধে পুলিশের সঙ্গে। দুপুরে কনট প্লেসে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। এর পর আইসা নেত্রী নেহা বোরার নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী এগোতে গেলে পুলিশ তাঁদেরও আটক করে। দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ায়, সেখান থেকেও আটক করা হয় বেশ কয়েক জনকে।
তবে দিনভর আটকের ঘটনা সত্ত্বেও সন্ধ্যায় আন্দোলন থামানো যায়নি। আলো ঝলমলে কনট প্লেস ও রাজীব চকে সন্ধ্যার জমায়েত শুরু হতেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাহিনীর চরম টানাহেঁচড়া চলে এবং বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে বাসে তুলে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দিনভর ধরপাকড়ের পরও সন্ধ্যার এই পুনরুজ্জীবিত প্রতিবাদ ও আটক পর্ব রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছে দেয়।















