মণিপুরের (Manipur) পাহাড়ি এলাকায় ফের সংঘর্ষের জেরে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কামজং, কাংপোকপি ও উখরুলে ৯ ও ১০ অক্টোবরের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনায় অন্তত ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বন্ধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচান্দ সিং (Chief Minister Yumnam Khemchand Singh) দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

আরও পড়ুন: বার্লিন থেকে লন্ডন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ভারতের Gen Z-র পাশে প্রবাসী থেকে বিদেশি

কামজংয়ের চাসাদ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় শুক্রবার রাতে প্রাণ হারান পাঁচ সন্তানের মা, ৪২ বছরের ডোমহোনেই তৌথাং। অবৈধ বাঙ্কার সরানোর উদ্দেশ্যে পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন ও বিএসএফ সেখানে অভিযান চালিয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় মহিলাদের বিক্ষোভ এবং গুলির লড়াইয়ের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটির পর এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই সম্প্রদায়ের বহু বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। অন্তত ১৪টি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। একই অশান্তির মধ্যে ২৩ বছরের মিশেল গামমিনলেন হোকিপেরও মৃত্যু হয়। শনিবার কামজংয়ের নিংচৌ গ্রামে পৃথক হামলায় দুই নাগা গ্রামরক্ষী এনগাঞ্চসো নিংশেন ও লেইশিসান লেইশাদাং নিহত হন।

কাংপোকপিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ইম্ফল-তামেনলং সড়ক সংলগ্ন মাকুই আশাং ও তপোন এলাকার ঘটনাকে ঘিরে। মাকুই গ্রামে হামলায় তিনজন নাগা গ্রামরক্ষীর মৃত্যু হয়। পরে ওই এলাকার দিকে যাওয়ার পথে আরও এক নাগা স্বেচ্ছাসেবক সশস্ত্র হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, উখরুলে জাতীয় সড়ক ২০২-এ গাড়িতে যাতায়াতের সময় গুলির হামলায় মারা যান নেপালি বংশোদ্ভূত সন্দীপ রাই। বিভিন্ন হামলায় কারা জড়িত, তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এলেও সব ক্ষেত্রে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন: ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ইয়ারবাড! শ্রবণশক্তি এড়াতে মেনে চলুন ‘৬০/৬০’ নিয়ম

রক্তপাতের প্রতিবাদে পরিবহণ ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কাংপোকপিতে কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি জাতীয় সড়ক ২-এ ২৪ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে। উখরুলের কুকি নাগরিক সংগঠনগুলির যৌথ কমিটি আবার ইম্ফল-উখরুল সংযোগকারী জাতীয় সড়ক ২০২-এ অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করেছে। রাজ্য প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, হিংসা বন্ধ করে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব সম্প্রদায়কে সংযম বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মুক্তির পরেও স্বস্তি নেই! ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

এই পরিস্থিতিতে কুকি সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশ এবং এনএসসিএন-আইএম ও তার ইস্টার্ন ফ্লাঙ্কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটির দাবি, চাসাদ, ইয়াওলেন ও আইটি রোড এলাকায় কুকি-জো নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে চলা জাতিগত সংঘাতে বহু মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতির পর নতুন করে এই প্রাণহানি রাজ্যের শান্তি ফেরানোর উদ্যোগকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সম্প্রদায়গুলির মধ্যে উত্তেজনা কমানো এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।