উৎসবের দিনগুলিতে রাত জেগে ঠাকুর দেখা, দেদার আড্ডা আর নিয়ম ভেঙে খাওয়াদাওয়ার আনন্দই আলাদা। কিন্তু টানা কয়েক রাত প্যান্ডেল হপিংয়ের পর যখন ভোরের আলো ফোটে, তখনই টের পাওয়া যায় শরীরের আসল ক্লান্তি। ঘুম কম হওয়া, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা এবং অনিয়মের কারণে মাথা ধরা, হাত-পায়ে ব্যথা ও চরম অবসাদ গ্রাস করে শরীরকে। উৎসবের আমেজ বজায় রেখে রাত জাগার এই ধকল সামলে কীভাবে দ্রুত শরীরকে চাঙ্গা করে তুলবেন, জেনে নিন তার সহজ কিছু উপায়:

আরও পড়ুন: অনুপম-রূপমের ‘দিল্লি চলো’ পোস্ট ঘিরে তোলপাড়! রাজনীতির রং নাকি লুকিয়ে অন্য চমক?

পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম 

রাত জাগার ক্লান্তি দূর করার সবচেয়ে প্রধান উপায় হলো ঘুম। প্যান্ডেল হপিং সেরে ফিরে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার একটানা গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। সকালে বাড়ি ফিরে ঘরের পর্দা টেনে অন্ধকার করে দিন, যাতে দিনের আলো আপনার ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটায়। প্রয়োজনে ফোন সাইলেন্ট করে রাখুন।

জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন রোধ করুন

রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ হাঁটা এবং গরমে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়। বাড়ি ফিরেই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান। সাধারণ জলের পাশাপাশি ডাবের জল, লেবুর জল বা ওআরএস (ORS) খেতে পারেন। এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইট বা খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং ক্লান্তি দ্রুত দূর করবে।

হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খান

উৎসবের দিনগুলিতে তেল-ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়। তাই ধকল সামলানোর দিনটিতে পাকস্থলীকে বিশ্রাম দিন। সকালে বা দুপুরে অতিরিক্ত ভারী খাবার না খেয়ে সহজপাচ্য ও হালকা খাবার যেমন— টক দই, ওটস, খিচুড়ি, ফল বা স্যুপ খান। এতে লিভার এবং পরিপাকতন্ত্র আরাম পাবে। একসঙ্গে অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণ বুঝে খান। 

পায়ের ক্লান্তি দূর করতে গরম জলের সেঁক

মাইলের পর মাইল হাঁটার ফলে সবচেয়ে বেশি ধকল যায় পায়ের ওপর। বাড়ি ফিরে একটা গামলায় সামান্য গরম জল নিয়ে তাতে কিছুটা রক সল্ট বা ইপসম সল্ট মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এটি পায়ের পেশির ক্লান্তি ও ব্যথা নিমেষেই উপশম করবে।

ক্যাফেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নয়

শরীর চাঙ্গা করতে অনেকেই ঘন ঘন চা বা কফি খাওয়া শুরু করেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি দূর করলেও শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য করে তোলে, যা পরে আরও বেশি ক্লান্তির কারণ হয়। চায়ের বদলে গ্রিন টি বা ভেষজ চা (Herbal Tea) বেছে নিতে পারেন।

হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর আড়ষ্ট লাগলে জোর করে ভারী ব্যায়াম করতে যাবেন না। তার চেয়ে হালকা কিছু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা স্ট্রেচিং করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হবে এবং শরীরের পেশিগুলি সতেজ হয়ে উঠবে।

পরিশেষে উৎসবের আনন্দ অবশ্যই উপভোগ করবেন, তবে তা যেন শরীরের ওপর স্থায়ী ক্ষতি না ডেকে আনে। এক রাত ঠাকুর দেখার পর পরের দিন শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দিন, তারপর আবার নতুন শক্তিতে মেতে উঠুন উৎসবের আলোয়।