আকাশ জুড়ে পেজা তুলোর মতো মেঘ তেমনি বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ আবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিও এর মধ্যেই এসে গেল দুর্গাপুজো। শারদোৎসবের সূচনা হয়ে গেছে আর সেই সঙ্গে বাঙালির মহাকেনাকাটি পর্বেরও শুরু হয়ে গেছে। কোনটা ছেড়ে কোনটা নেব এই দোটানায় সবাই। ফ্যাশন ট্রেন্ডে ঢোকার আগে বুঝতে হবে পুজো মানে ফ্যাশন আর কমফোর্ট— দুইই। বাড়িতেই পার্টি হোক বা পাড়ার মণ্ডপের বিচিত্রানুষ্ঠান, প্যান্ডেল হপিং হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে ইটিং আউট। দুটো ক্ষেত্রে বদলে যাবে ফ্যাশনের খোলনলচে। 

আরও পড়ুন: টাকিতে জেলা বিজেপির অন্দরে টাকা লেনদেন! সেটিংয়ের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

ষষ্ঠী দিয়েই পুজো শুরু। কেমন চাইছেন ষষ্ঠীর লুক। কী পরবেন বোধনের বাজনা বেজে ওঠার সঙ্গে। শুরুটা থাকুক ক্যাজুয়াল লুকে। শুরুর দিনে গরমের কথা মাথায় রেখে সুতি, লিনেন ও খাদি হ্যান্ডলুমের ওয়ান-পিস বা কুর্তি বেছে নিতে পারেন। বেছে নিতে পারেন প্যাস্টেল শেডের শর্ট কুর্তি সঙ্গে স্ট্রেইট ট্রাউজার্স। তবে অপশন রয়েছে আরও অনেক। যেমন ফ্লোরাল ওয়েস্টার্ন ম্যাক্সি ড্রেস, শর্ট বা মিড লেংন্থ ড্রেস, ফ্লেয়ারড ড্রেস সবই এবছর ট্রেন্ডে। এই ধরনের পোশাকে ড্রেসি একটা লুক ক্রিয়েট করতে পারেন। এবছর পুজোর ডিজাইনে সেলফ ওয়র্ক তো আছেই সঙ্গে এমব্রয়ডারি, পার্শি, গুজরাতি, কাঁথা, চিকনকারি ভীষণ ইন। তাই সপ্তমীর পোশাকে বেছে নিতেই পারেন পেস্টাল শেডের চিকনকারি স্যুট। সেই স্যুটের মেটিরিয়াল রেয়ন, শিফন বা জর্জেট অথবা সুতি হলেও ভাল লাগবে। লাইট ওয়েট হবে। গোল্ড প্রিন্ট এবছর ইন। সুতি সুতি করে আমরা চেঁচাই দারুণ, বিষয় হল, এখন সুতির হরেক বিকল্প ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। রেয়ন, মিক্সড ইয়ার্ন, সফট মলমল, ভিসকোস পুজোর সময় গরমে দারুণ আরাম দেবে। গায় লেপটে থাকা একটা ব্যাপার থাকে। দেখতে বেশ স্মার্ট এবং কন্টেম্পোরারি। কো-অর্ড সেট গত বছর থেকেই ইন। এবছরেও হিউজ স্টক সর্বত্র। একেবারে পাঁচ ছ’শো থেকে হাজার, বারোশো, পনেরোশো বিভিন্ন দামের কো-অর্ড সেটে দারুণ কালার প্যালেট এবং ডিজাইনে পেয়ে যাবেন।  একরঙা কো-অর্ড সেটের সঙ্গে বেছে নিতে পারেন এথনিক জ্যাকেট। ওয়েস্টার্ন, ইন্দ ওয়েস্টার্নের পাশাপাশি শাড়ি, ধোতি কুর্তা, শরারা, লেহেঙ্গা সবটাই যেন অষ্টমীর সাজের সঙ্গে মানানসই। অষ্টমীর সকাল মানেই সেজে গুজে মায়ের কাছে অঞ্জলি। তাই একটা পুরোপুরি ট্র্যাডিশনাল লুক করা যেতেই পারে। এখন রেডি টু ওয়্যার শাড়ি ইন। ডিজাইন লেবেলগুলোতেও রেডি টু ওয়্যার শাড়ি রয়েছে, মোডাল, পিওর সিল্ক এবং ট্রাডিশনাল, তাঁত, জামদানি অষ্টমীর সকাল হোক বা রাত, যেটাই পরবেন কনফিডেন্ট থাকলেই আপনার লুক পাল্টে যাবে মুহূর্তে। এখন এমন এটা সময় যখন আপনি যেটাই পরবেন সেটাই ফ্যাশন। পুজোর রাতের লুকের জন্য শিমারি টিস্যু সিল্কের কুর্তি, অর্গানজা শাড়ি বা ভারী এমব্রয়ডারি করা ক্যান-কান স্কার্ট বা ফ্লোর-লেন্থ গাউন বেছে নিতে পারেন। নবমী নিশি এল মানেই ফ্যাশন বা স্টাইলের শেষ নয়, বরং চুটিয়ে আড্ডা, পার্টি। লং গর্জাস ড্রেস, বিভিন্ন কাটের লং বা মিড লেন্থ গাউন। কাফতান ভীষণ ইন। প্যাচওয়ার্কের কাফতান বা মোডালের কাফতান ড্রেস, চান্দেরির কাফতান কুর্তা, অ্যাসিমেট্রিকাল কাফতান ড্রেস, জর্জেট বা শিফন, গ্লসি রেয়ন, বা মিরর মোডালের ওয়ার্কের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক রাতের আলোয় প্যান্ডেলে দুর্দান্ত। দক্ষিণের হেভি সিল্কের শাড়ি বা কারদানা ওয়র্কের সিল্ক বা জামদানি, হেভি টিস্যু মেটিরিয়ালের শাড়ি, মাসরু কাতান, বুটা তসর, মসলিন বেছে নিতে পারেন এই দিনটায়।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দিনেও রণক্ষেত্র যন্তর-মন্তর, মহুয়ার কড়া ভাষায় তোপ

ফিউশন পোশাক বহু বছর ধরেই পুজোয় ট্রেন্ডিং। যে কোনও উৎসব অনুষ্ঠান, পুজো সবেতেই ফিউশনেই মাত দেবে জেন জি। বেশকিছু জনপ্রিয় ফিউশন যেগুলো এবছর ট্রেন্ডে সেগুলো পরে ফেলতে পারেন, যেমন—

কেপ সহ ক্রপটপ ও ধোতি প্যান্ট : জমকালো ক্রপ টপ এবং সিল্ক বা জর্জেটের ধুতি প্যান্টের সঙ্গে নেটের বা শিফনের এমব্রয়ডারি করা লং কেপ দারুণ মানানসই।

ধোতি প্যান্ট ও টিউলিপ স্কার্ট: ট্র্যাডিশনাল লং স্কার্টের বদলে এবার শর্ট কুর্তির সঙ্গে ধুতি প্যান্ট, টিউলিপ স্কার্ট বা শারারা সেট দারুণ ট্রেন্ডি।

কেপ লেহেঙ্গা: প্রথাগত লেহেঙ্গার সঙ্গে ওড়না নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে এখন ব্লাউজের সঙ্গে কেপ জুড়ে দেওয়া হয়। স্লিভলেস ব্লাউজের ওপর কাঁধ থেকে ঝুলে থাকে, যা দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে।

স্কিন টোন অনুযায়ী মানানসই রঙের পোশাক: সবার ত্বক বা স্কিন টোন একরকম নয়। তাই নিজের স্কিন টোন অনুযায়ী সঠিক রঙের পোশাক বেছে নিলে কেল্লাফতে। তাতেই আপনি হয়ে উঠবেন সেরা সুন্দরী।

আরও পড়ুন: নৌসেনার গুজব উড়িয়ে সামনে এল মিমির হবু বরের আসল পরিচয়!

ফেয়ার স্কিন টোন : যাঁদের ত্বক ফর্সা বা উজ্জ্বল, তাঁদের ওপর প্রায় সব ধরনের রংই মানিয়ে যায়। তবে কিছু রং তাঁদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যেমন ডিপ-রয়্যাল ব্লু, এমারেল্ড গ্রিন, বারগেন্ডি, প্লাম এবং মেরুন। এছাড়া প্যাস্টেল শেড যেমন পিচ, মিন্ট গ্রিন বা ল্যাভেন্ডারও দারুণ মানায়।

শ্যামলা স্কিন টোন : বাঙালি মেয়েদের মধ্যে এই স্কিন টোনটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই ত্বকে এক অভাবনীয় উষ্ণ আভা থাকে। এই টোনের জন্য মাস্টার্ড ইয়েলো, ওয়াইন কালার, টেরাকোটা, ব্লাশ পিঙ্ক, এবং ব্রাউন রং দারুণ মানানসই। অষ্টমীর ক্লাসিক লাল রঙের পোশাকও এই স্কিন টোনে ভীষণ আকর্ষণীয় লাগে। এছাড়া রয়্যাল ব্লু বা টিল গ্রিন রংও বেছে নিতে পারেন।

ডার্ক স্কিন টোন : ডার্ক স্কিন টোনের নিজস্ব এক আভিজাত্য রয়েছে। তাই ব্লাশ পিঙ্ক, লাইট গোল্ড, মাস্টার্ড, কোরাল এবং ব্রাইট ফুশিয়া পিঙ্ক রং ডার্ক স্কিন টোনে চমৎকার ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া ক্লাসিক হোয়াইট বা আইভরি রঙের পোশাকও এই ত্বকে দারুণ কন্ট্রাস্ট তৈরি করে।

আরও পড়ুন: উৎসবের আড়ালে অশনি সঙ্কেত! শতবর্ষের রাজবাড়িতে রহস্যের ‘দেবীপক্ষ’

মেকআপ ও অ্যাক্সেসরিজের সঠিক মেলবন্ধন : পোশাক যেমনই হোক না কেন, সঠিক অ্যাক্সেসরিজ ছাড়া সাজ সম্পূর্ণ হয় না। তাই সুতি বা ফিউশন ড্রেসের সঙ্গে সিলভার বা অক্সিডাইজড জুয়েলারি, বা বিডেড জুয়েলারি বা কাপড়ের গয়না আপনার পুরো লুক বদলে দিতে পারে। অন্যদিকে সিল্ক বা কাঞ্জিভরম, কারদানা শাড়ির সঙ্গে মানানসই ট্র্যাডিশনাল গোল্ড প্লেটেড বা কপার ফিনিশ গয়না বা মুক্তোর, কস্টিউম জুয়েলারি বেছে নিন। সকালের দিকে হালকা নো-মেকআপ লুক বা ডিউই ফিনিশ এবং রাতের প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্য স্মোকি আই বা ক্লাসিক উইংড আইলাইনারের সঙ্গে ম্যাচিং লিপস্টিক— আপনার পুজোর লুক হবে পরিপূর্ণ।