বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস আর শর্ট ভিডিওর চক্করে পড়ে ছোট থেকে বড় সবারই মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিশেষ করে শিশুদের মোবাইল আসক্তি এবং পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব নিয়ে চিন্তার শেষ নেই অভিভাবকদের। কিন্তু কোনও ওষুধ বা কড়া শাসন ছাড়াই কি শিশুর ফোকাস বাড়ানো সম্ভব? সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে এমনই এক জাদুকরী এবং বৈজ্ঞানিক ‘ব্রেন গেম’ বা থেরাপির হদিশ দিলেন প্রখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার ও লাইফ কোচ মৃণাল চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন: নিম্নচাপের বৃষ্টির মাঝে সাঁকরাইলে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়, রক্ষা পেল এলাকা

তাঁর দাবি, এই খেলাটি নিয়মিত অভ্যাস করলে শিশুর মস্তিষ্ক লুপ থেকে বেরিয়ে আসবে এবং ফোকাস করার ক্ষমতা অবিশ্বাস্য রকম বেড়ে যাবে। তবে এই গেমটির একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে—এটি কোনওভাবেই মুখস্থ করে বলা যাবে না!

কী এই গেম এবং কীভাবে খেলাবেন? আসুন স্টেপ-বাই-স্টেপ আমরা জেনে নিই। 

মৃণাল বাবু জানান, এই গেমটি মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে এবং শিশুর বয়স ও দক্ষতা অনুযায়ী এর কঠিন স্তর বা ‘অ্যাডভান্স লেভেল’ সেট করা যায়।

বেসিক লেভেল

প্রথমে আপনার সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে ১ থেকে ২৬ পর্যন্ত সংখ্যা বলতে হবে। এরপর বলতে হবে ইংরেজি বর্ণমালার A থেকে Z পর্যন্ত। এটি অত্যন্ত সহজ হলেও এটি আসলে পরের কঠিন স্তরের জন্য মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করে।

মিডিয়াম লেভেল 

এটি ফোকাস বাড়ানোর আসল চাবিকাঠি। এবার সংখ্যা এবং বর্ণমালাকে একসঙ্গে জুড়তে হবে। ক্রমানুসারে বলতে হবে- A1, B2, C3, D4... এইভাবে একদম Z26 পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: শুল্ক যুদ্ধে বিরতি! ১১ বছর পর আমেরিকায় জিনপিং পা রাখতেই বিরাট ঘোষণা

অ্যাডভান্স লেভেল

এটি হল ব্রেনকে সুপার-ফাস্ট করার উপায়। মিডিয়াম লেভেলে সন্তান পারদর্শী হয়ে উঠলে এটিকে একটু ঘুরিয়ে দিতে হবে। যেমন— 1A, 2B, 3C, 4D... এইভাবে বলা।

আল্ট্রা-অ্যাডভান্স লেভেল

এটি এই গেমের সবচেয়ে কঠিন ও কার্যকরী স্তর। যে কারণে এই স্তরকে বলা হয় মাস্টার ক্লাস। এখানে সংখ্যা, বর্ণমালা এবং উল্টো গণনা (Reverse Counting)—এই তিনটি জিনিসকে একসঙ্গে মেলাতে হবে। এবার বলতে হবে- 1A-26, 2B-25, 3C-24, 4D-23... অর্থাৎ সোজা সংখ্যার সাথে সোজা বর্ণমালা এবং তার পাশে ২৬ থেকে উল্টো দিকে কমতে থাকা সংখ্যা।

মৃণাল চক্রবর্তীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মুখস্থ করলে কিন্তু হবে না, তাহলে ব্রেন লুপ নিয়ে নেবে!” প্রতিবার মাথা খাটিয়ে, ভেবেচিন্তে পরের সংখ্যা ও বর্ণমালাটি বলতে হবে। যখনই সে মুখস্থ বলতে যাবে, মস্তিষ্কের নতুন কোষ উদ্দীপিত হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: নামে 'মন্দির' থাকলে, বিনামূল্যে চিকিৎসা হোক: আদানির হাসপাতাল নিয়ে বড় দাবি কুণালের

মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের মতে, আমাদের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত যেকোনও চেনা জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে অলস হয়ে পড়ে (যাকে লুপ বলা হয়)। কিন্তু যখনই আমরা সোজা গণনা, বর্ণমালা এবং উল্টো গণনাকে একসাথে মিলিয়ে নতুন কোন লজিক তৈরি করি, তখন মস্তিষ্কের দুই গোলার্ধের (Left and Right Brain) মধ্যে তীব্র সংযোগ তৈরি হয়। মুখস্থ না করে প্রতি সেকেন্ডে নতুন করে ভাবার এই প্রক্রিয়াটি শিশুর ‘প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স’-কে সক্রিয় করে তোলে, যা নিমেষেই মনোযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।