ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মা। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িও ফিরেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে হাসপাতালের বেড থেকে একটি ছবি পোস্ট করে অভিনেত্রী নিজেই ভক্তদের এই খবর জানান এবং সকলকে মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতাল থেকে ছুটি মিললেও এবং জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে কড়া বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ডেঙ্গির জ্বর কমে যাওয়া মানেই যে পুরোপুরি সুস্থ বা শরীর একদম ফিট সেকথা বলা যাচ্ছে না। 

আরও পড়ুন: “আমি সারাজীবন অ্যানিকে চুমু খেতে পারি”, ডাকোটার প্রতিক্রিয়ায় প্রেমের গুঞ্জন!

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি মস্ত বড় ভুল ধারণা রয়েছে—জ্বর কমে যাওয়া মানেই ডেঙ্গি রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়টাকেই ডেঙ্গির ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ বা জটিল পর্যায় বলা হয়। জ্বর চলে যাওয়ার পরেই অনেকের ক্ষেত্রে প্লেটলেট আচমকা দ্রুত কমতে শুরু করে, রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা শক সিন্ড্রোমের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও তীব্র ক্লান্তি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা ও দুর্বলতা বেশ কিছুদিন স্থায়ী হয়। তাই কঙ্কনার ক্ষেত্রেও জ্বর কমার পর সুস্থতার পথে সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য বাড়তি নজরদারি ও বিশ্রামের প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: সমালোচনাকে ডোন্ট কেয়ার, মঙ্গলের ভোরে 'ট্রাম্প টিভি' চালু হোয়াইট হাউসের

পর্যাপ্ত তরল ও জলের ভারসাম্য

ডেঙ্গির সময় শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। তাই এই সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রচুর পরিমাণে জল, ওআরএস (ORS), ডাবের জল, স্যুপ বা টাটকা ফলের রস খাওয়া উচিত। তবে অন্য কোন শারীরিক জটিলতা থাকলে তরল গ্রহণের পরিমাণ ডাক্তারের থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।

জিম হোক বা কঠিন শরীরচর্চা, তাড়া নয় 

জ্বর কমে গেছে মানেই শরীর কঠিন পরিশ্রমের জন্য তৈরি—এমন ভাবা একদম ভুল। শরীর পুরোপুরি ভাইরাসমুক্ত হতে এবং শক্তি ফিরে পেতে সময় নেয়। তাই দ্রুত জিম, ভারী ওজন তোলা বা কঠোর কসরতে ফিরে যাওয়া যাবে না। কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পর শরীরের স্বাভাবিক শক্তি বা কার্যক্ষমতা ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো কাজকর্ম ও ব্যায়াম করা যেতে পারে। 

আরও পড়ুন: Asian Games: শ্রীলঙ্কাকে হেলায় হারালেন স্মৃতিরা, মহিলাদের হাত ধরেই প্রথম সোনা ভারতের

হালকা ও পুষ্টিকর খাবার 

রোগমুক্তির সময়ে লিভার এবং পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকে। তাই সহজে হজম হয় এমন হালকা, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন—ডাল, ডিমের সাদা অংশ, মুরগির স্যুপ শরীরের হারানো শক্তি দ্রুত ফেরাতে সাহায্য করে।

প্লেটলেট কাউন্টের পাশাপাশি সামগ্রিক নজরদারি

অনেকেই কেবল প্লেটলেট রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে নিশ্চিন্ত হয়ে যান, যা ঠিক নয়। প্লেটলেটের পাশাপাশি রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং শরীরে জলের ভারসাম্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: সমুদ্রের উপর সক্রিয় সিস্টেম, আশঙ্কা সত্যি করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিল নিম্নচাপ!

বিপদকালীন লক্ষণগুলির দিকে খেয়াল রাখা

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও যদি তীব্র পেটব্যথা, ঘন ঘন বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত ঘুম-ঘুম ভাব, শ্বাসকষ্ট কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

তাই ডেঙ্গি সেরে ওঠা মানেই সুস্থ এমনটা নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জল, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ- এসব কিছুই ভীষণ জরুরি। শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তারপরেই ধীরে ধীরে আগের রুটিনে ফেরা উচিত বলেই পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকেরা।