প্রথম অ্যালবামের অভাবনীয় সাফল্যের পর শ্রোতাদের আবারও মেলোডির জাদুতে ভাসাতে মুক্তি পেল প্রখ্যাত চিকিৎসক ও সংগীতশিল্পী ডা. অশোক রায়ের দ্বিতীয় একক সংগীত অ্যালবাম সুরবিতান (পর্ব ১)। বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরন্তন নস্টালজিয়া জাগিয়ে তুলতে স্বর্ণ যুগের গান নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বিশেষ অ্যালবামটি। 

আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় মাওবাদী ডেরায় অস্ত্র  ভাণ্ডারের হদিস, বড়সড় সাফল্য পুলিশের

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কলকাতার বেলেঘাটা-ফুলবাগানের যুগলবন্দি অ্যাকাডেমিতে বহু বিশিষ্ট সংগীতপ্রেমী ও গুণীজনদের উপস্থিতিতে এক ঘরোয়া কিন্তু বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতেই ডা. রায় এই সংগীত প্রজেক্টের উদ্যোগ নেন। 

ডা. রায় বিশ্ববাংলা সংবাদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ১৯৫০-১৯৭০ সময়কালে স্বর্ণ যুগের ৮ জন শিল্পীর ৮টি গান নিয়ে অ্যালবামটি তৈরি হয়েছে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, অখিলবন্ধু ঘোষ, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, পিন্টু ভট্টাচার্য, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্যামল মিত্র প্রত্যেকের একটি করে গান অ্যালবামে গাওয়া হয়েছে। প্রতিটি গানে পুরনো দিনের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলিতে কোনরকম ফিউশন ব্যবহার করা হয়নি। 

আরও পড়ুন: ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণে আপত্তি, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথে কর্নাটক সরকার

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গানের আগে সেই গানের ইতিহাস বলা হয়েছে। অর্থাৎ গানটি কত সালে রচিত হয়েছিল, কোন অ্যালবামে বেরিয়েছিল, সুরকার, গীতিকার কারা ছিলেন-এই সমস্ত জিনিসটা গুছিয়ে যিনি পাঠ করেছেন তিনি হলেন প্রত্যুষা চক্রবর্তী। 

অ্যালবামটির সঙ্গীতায়োজনের দায়িত্বে থাকা কৌস্তুভ সেন বরাট স্বর্ণযুগের গানের সেই চেনা মাধুর্য ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক শ্রোতাদের রুচির কথা মাথায় রেখে এর আবহ তৈরি করেছেন। প্রথম পর্বটি মূলত নস্টালজিক সুরের ওপর ভিত্তি করে সাজানো।

আরও পড়ুন: ব্যবসায় বাড়তি মনোনিবেশ! LinkedIn-এ আত্মপ্রকাশ কিং কোহলির

প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংগীতের আসরগুলিতে অ্যালবামটি বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলছে। ইতিমধ্যেই শ্রোতারা শিল্পীর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ‘সুরের সাথী’ (Surer Sathi)-তে অ্যালবামটির গান উপভোগ করতে পারছেন। এছাড়াও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ‘সুরের মোহনা’ (Surer mohona) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং শিল্পীর ফেসবুক পেজেও এটি নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে।

চিকিৎসার মতো মহৎ ও ব্যস্ত পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও যেভাবে ডা. অশোক রায় বাংলা গানের ধারাকে বাঁচিয়ে রাখার এই প্রয়াস নিয়েছেন, তা সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।