মাসের ওই বিশেষ কয়েকটা দিন মানেই বহু নারীর কাছে এক আতঙ্কের নাম। তলপেটে মোচড় দিয়ে আসা অসহ্য যন্ত্রণা, কোমরে ব্যথা, আর সেই সঙ্গে বমি বমি ভাব বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তো আছেই। এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘন ঘন পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলেন, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তবে এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে রয়েছে আপনার রান্নাঘরেই, যা পিরিয়ডের ব্যথা নিমেষে দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক নিয়োগে কাটছে জট! প্রতিবছর TET-এর ঘোষণা স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর
জাদুকরী পানীয় তৈরির উপাদান ও পদ্ধতি
এই বিশেষ পানীয় বা ক্বাথটি তৈরি করতে আপনার হাতের কাছে মাত্র কয়েকটি সাধারণ উপাদানের প্রয়োজন হবে। ২ কাপ জল, ১ টেবিল চামচ সামান্য থেঁতো করা আখরোট, আধা চা চামচ আদার গুঁড়ো এবং ১ টেবিল চামচ গুড়।
তৈরির করবেন কীভাবে:
প্রথমে জল ফুটিয়ে নিন। তারপর তাতে আখরোট ও আদার গুঁড়ো দিয়ে কম আঁচে ৫-৭ মিনিট রেখে দিন। এরপর গ্যাস বন্ধ করে তাতে সামান্য আখের গুড় মিশিয়ে দিন। গুড় পুরোপুরি গলে গেলে পানীয়টি ছেঁকে নিন। হালকা গরম থাকা অবস্থায় চায়ের মতো চুমুক দিয়ে এটি পান করুন।
আরও পড়ুন: তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না: বিস্মৃতির আড়ালে থিয়েটারের ‘শেরখান’ অজিতেশ
কেন এটি এত উপকারী?
সামান্য আদা আর আখরোট কীভাবে এতটা ম্যাজিক করতে পারে, তার পেছনে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:
আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেমন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ম্যাগনেশিয়াম জরায়ুর সংকুচিত পেশিকে শিথিল বা রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে, যা সরাসরি ক্র্যাম্প বা ব্যথা কমিয়ে দেয়। আদা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে, যা পিরিয়ডের যন্ত্রণার জন্য দায়ী। এছাড়া পিরিয়ডের সময় অনেকের যে বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা হয়, তা দূর করতেও আদা যুগ যুগ ধরে ওষুধের মতো কাজ করছে। গুড় শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং পিরিয়ডকালীন ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে অপহরণের চেষ্টার ধারা দিয়েছে পুলিশ: থানা থেকে বেরিয়ে জানালেন কুণাল
অতিরিক্ত কিছু জরুরি টিপস
এই পানীয়টি খাওয়ার পাশাপাশি মাসের ওই দিনগুলিতে আরও কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখলে আরাম পাবেন:
ব্যথার জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিটিং প্যাড দিয়ে হালকা সেঁক দিন। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। সারাদিন বিছানায় শুয়ে না থেকে ঘরের মধ্যে সামান্য হালকা হাঁটাচলা করুন। এতে রক্তসঞ্চালন ঠিক থাকে এবং পেশি সচল হয়।
সতর্কবার্তা:
ঘরোয়া টোটকা সাময়িক আরাম দিলেও তা কিন্তু কখনও মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়। পিরিয়ডের ব্যথা যদি অতিরিক্ত তীব্র হয়, প্রতি মাসে আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকে, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
















