২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস (World Heart Day)। হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল থিম হল “Don't Miss a Beat” অর্থাৎ একটি স্পন্দনও যেন বাদ না যায়। এই থিমের মূল উদ্দেশ্য হল—হৃদরোগের এমন কিছু ছোট বা সূক্ষ্ম লক্ষণ যা আমরা দৈনন্দিন জীবনে এড়িয়ে যাই বা সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে ভুল করি, সেগুলির প্রতি নজর দেওয়া এবং সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
আরও পড়ুন: পুজোয় ঝলমলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস! বৃষ্টি কমতেই বাড়ছে অস্বস্তিকর গরম
কয়েকদিন ধরেই বুকে কেমন যেন একটা চাপ ভাব লাগছিল। ভাবলাম বাইরের তেল-ঝাল খাওয়ার জন্য হয়তো গ্যাস বা অ্যাসিডিটি হয়েছে। একটা অ্যান্টাসিড খেয়ে কাজে চলে গেলাম। কিন্তু আজ সকালে যখন হঠাৎ কপালে ঠান্ডা ঘাম দিয়ে তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হল, তখন আর বুঝতে বাকি রইল না যে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর।—হাসপাতালের সিসিইউ (CCU) বেডে শুয়ে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন ৩৮ বছর বয়সী আইটি পেশাদার অনিমেষ রায়।
অনিমেষের মতো এমন ঘটনা আজ আমাদের সমাজে আর ব্যতিক্রম নয়, বরং এটিই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আজ বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬-এ চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন এই “উপেক্ষা করার প্রবণতা” বা লক্ষণগুলিকে ছোট করে দেখার ওপর। চিকিৎসকদের মতে, ভারতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং উদ্বেগের বিষয় হল, এর বড় একটা অংশই ঘটছে ৫০ বছরের কম বয়সী যুবকদের মধ্যে।
আরও পড়ুন: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দ্রুত শুনানিতে সম্মত সুপ্রিম কোর্ট
বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল মানুষ প্রায়শই হার্টের সমস্যার লক্ষণগুলি বোঝার পরেও চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে নিজের মতো করে রুটিন বদলে নেয়। যেমন—সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় একটু হাঁপিয়ে গেলে লিফট ব্যবহার করা, হাঁটার গতি কমিয়ে দেওয়া, কিংবা বুক ধড়ফড় করাকে কাজের অতিরিক্ত চাপ বা ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যাওয়া। বিশেষ করে বুকের যেকোনও অস্বস্তিকেই প্রথমে ‘অ্যাসিডিটি’ বা গ্যাসের সমস্যা বলে ধরে নেওয়ার একটি মারাত্মক প্রবণতা রয়েছে। এই সামান্য ভুলের কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়, যা প্রাণহানির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: কোথায় কত দামে মিলছে পেট্রোল ডিজেল দেখে নিন এক নজরে
যে লক্ষণগুলি কখনোই অবহেলা করবেন না
হৃদরোগের লক্ষণ সবসময় তীব্র বা আকস্মিক নাও হতে পারে। এটি খুব মৃদুভাবে শুরু হয়ে আবার চলেও যেতে পারে। তবে এমন কিছু লক্ষণ আছে যেগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন-
বুকে চাপ বা ভারী ভাব: বুকে তীব্র ব্যথা না হলেও যদি মনে হয় কেউ বুকটা চেপে ধরেছে বা ভারী কিছু চেপে বসে আছে।
ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: বুকের অস্বস্তি যদি বাম হাত, চোয়াল, ঘাড় বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
অকারণ ঠান্ডা ঘাম ও ক্লান্তি: কোনও পরিশ্রম ছাড়াই হঠাৎ শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম দেওয়া এবং প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করা।
শ্বাসকষ্ট: অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া বা বুক ধড়ফড় করা।
বমি বমি ভাব: মাথা ঘোরার পাশাপাশি বমি বমি ভাব হওয়া, যা অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা বলে ভুল হয়।
আরও পড়ুন: নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যারে মহালয়া-দুর্গোৎসব, চণ্ডীপাঠ করবেন সত্যম
সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য করণীয়:
চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৮০% হৃদরোগজনিত মৃত্যুই সঠিক সময়ে লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রুটিন চেক-আপ: ৩০ পেরোনোর পর অথবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে আরও আগে মানে ২৫ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত ইসিজি (ECG), লিপিড প্রোফাইল এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করান।















