উৎসবের মরশুমে ইউপিআই (UPI) লেনদেনে আপাতত বসছে না অতিরিক্ত মাশুল। ২,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের অনলাইন লেনদেনে (Online Transaction) মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালুর সিদ্ধান্ত আপাতত পিছিয়ে দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। আগে ঠিক হয়েছিল, ১৫ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। কিন্তু মঙ্গলবার ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত দিনে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে না। ফলে দীপাবলি পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে এই মাশুল চালুর আশঙ্কা থেকে আপাতত স্বস্তি পেলেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: মাদক কারবার নিয়ে বিবাদ! পঞ্জাবে খুন অ্যান্টিড্রাগ আন্দোলনের পরিচিত মুখ
কেন্দ্রের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর ধার্য করার কথা ছিল। সেই হিসাবে, ৫,০০০ টাকার লেনদেনে মাশুলের পরিমাণ হত ২০ টাকা। তবে এই খরচ গ্রাহকদের দিতে হবে না, ব্যবসায়ীদেরই তা বহন করতে হবে বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ইউপিআই ও পরিষেবা সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে মাশুল চালুর সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান হয়েছে। তবে দীপাবলির পর ঠিক কবে থেকে এমডিআর চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি এনপিসিআই। পরবর্তী সময়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন তারিখ জানানো হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রতিভা অন্বেষণে আমিরের নতুন উদ্যোগ! ডিজিটাল মঞ্চে আসছে ‘ওয়ান্স আপন আ মাইক’
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর ঘোষণা সামনে আসতেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। এই মাশুলের বোঝা শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের উপর পড়বে, নাকি ঘুরপথে গ্রাহকদের কাছ থেকেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত মাশুলের কারণে সাধারণ মানুষের খরচ বাড়তে পারে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্যবসায়ী অনলাইন লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেন। কোথাও অনলাইনে টাকা দিলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে বলে জানানো হয়, আবার কোথাও অনলাইন লেনদেন না নেওয়ার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ। ফলে উৎসবের মরশুমে কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ ছাড়া, এমডিআর চালু করতে পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির আপত্তি এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা—দুইয়ের প্রেক্ষিতেই নির্ধারিত দিনে নতুন নিয়ম কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। এমডিআর চালুর প্রস্তাব নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছিল গ্রাহকদের অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মাশুল গ্রাহকদের দেওয়ার কথা নয়। ব্যবসায়ীদেরই তা বহন করার কথা ছিল। তবে নিয়ম কার্যকর হলে বাস্তবে ব্যবসায়ীরা কীভাবে সেই খরচ সামলাবেন, তা নিয়ে সংশয় ছিলই। এখন নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত স্বস্তি মিলেছে। তবে এমডিআর পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। ফলে দীপাবলির পর এই মাশুল কবে এবং কীভাবে চালু হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহকেরা।















