নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এর ঘোষণাপত্র সংশোধন নিয়ে ঠিক এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিজেদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত সোমবার সাফ জানিয়ে দিল, সংশোধিত ফর্ম ৬ নিয়ে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এমনকি বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার সময় ওই সংশোধিত ফর্মটি তাদের সামনেও ছিল না। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির।

বিতর্কের সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং ফর্ম ৬-এ আনা বদলকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, এসআইআর পর্বে নতুন ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছিল, আগের এসআইআর তালিকায় তাঁদের বাবা বা ঠাকুর্দার নাম নথিভুক্ত রয়েছে কি না। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এই বদল নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। এমনকি আইনে সংশোধন না করে ফর্মে এই পরিবর্তন আনা অবৈধ বলেও সতর্ক করেছিলেন সান্ধু। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে অগ্রাহ্য করে বদল কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন দাবি করে, বিহারের এসআইআর রায়ের ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং তাতে সুপ্রিম কোর্টের সম্মতি রয়েছে।

কমিশনের এই দাবির বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, গত ৫ অক্টোবর শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছিল যে এই বদল তাদের অনুমোদিত নয়, তা সত্ত্বেও কমিশন ভিন্ন দাবি করছে। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পরিষ্কার ভাষায় জানান, সুপ্রিম কোর্ট নতুন ফর্ম ৬ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিহার এসআইআর মামলার শুনানি বা রায় ঘোষণার সময়ে ওই সংশোধিত ফর্মটির কোনও অস্তিত্বই ছিল না।

আদালতের এই স্পষ্ট বার্তার পর কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করেছে বিরোধীরা। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ তোলেন, নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই বেনিয়ম করে আসছে এবং বারবার আদালতের দোহাই দিয়ে অন্যায় পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিরোধীদের নিশানা সত্ত্বেও পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি। সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি ও ফর্ম ৬-এর সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা আরও বাড়ল।