নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। চিন্তায় মধ্যবিত্তরা। এই আবহে প্রকাশ্যে এল কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের পরিসংখ্যান। সেখানে দেখা যায়, অগাস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দেশে খুচরো মূল্যস্ফীতির হার (Retail Inflation Rate) অনেকটাই বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির বেড়ে হয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ সেইসঙ্গে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭৪ শতাংশে। এই পরিসংখ্যানের পিছনে রয়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও লেবুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি। 

আরও পড়ুন: নবান্নের নতুন নির্দেশিকা জারি: তিন আইএএসের দায়িত্বে রদবদল

চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে খুচরো মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। অগাস্টে তা বেড়ে হয় ৪.৮৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে সেই হার আরও বেড়ে ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, মাসের পর মাস বেড়েছে খুচরো মূল্যস্ফীতি। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বিশেষ করে খাবার ও রান্নার উপকরণ কিনতে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির (Price Increase) পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পেঁয়াজ (Onion)। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর একই মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০৮.০৯ শতাংশ। অগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৪৮.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির হার অনেকটাই বেড়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লি থেকে বাংলা— ‘INDIA’ ব্লককে আটকাতে সর্বত্রই ট্রাফিক অচলের কারসাজি! বিস্ফোরক মমতা

পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে অন্যান্য রান্নার উপকরণেরও। গত বছরের তুলনায় আদার দাম বেড়েছে ৬২.৮৫ শতাংশ। রসুনের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার অগস্টের ৪৩.৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৫৪.৬২ শতাংশ। লেবুর দামও বেড়েছে ৩৬.৪১ শতাংশ। ফলে রান্নার বাজার করতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, রুপোর গয়নার মূল্যবৃদ্ধির হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৮৭.৮০ শতাংশ। তবে অগস্টে এই হার ১০৬.৮১ শতাংশ থাকায় সেপ্টেম্বরে তা কিছুটা কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেশি। সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ ভারতে খুচরো মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬.০৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই হার ৪.৮৮ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.০৬ শতাংশ। শহরাঞ্চলে তা ছিল ৭.১৮ শতাংশ। সারা দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭৪ শতাংশে।

সব পণ্যের দাম অবশ্য বাড়েনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর আলুর দাম কমেছে ১১.৫০ শতাংশ। টমেটোর দাম কমেছে ৮.৬২ শতাংশ। মোটর গাড়ি, জিপ, ঢ্যাঁড়স এবং নারকেলের ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির হার ঋণাত্মক ছিল। অর্থাৎ, এই পণ্যগুলির ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় দাম কমেছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে মূল্যবৃদ্ধির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অনলাইন বাজার-সহ মোট ১,৪০৭টি শহুরে বাজার এবং ১,৪৬৫টি গ্রামের তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরে খুচরো মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। আলু ও টমেটোর দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পেঁয়াজ, আদা, রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের বাজেটে চাপ তৈরি করছে।