লখনউয়ের হজরতগঞ্জ এলাকার এক বহুতল আবাসন থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছর বয়সী ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী শিব শর্মার। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তাঁর লিভ-ইন পার্টনার তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল শ্রদ্ধা দুবে। শিবের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল ও খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক শ্রদ্ধা দুবে। তবে তদন্তে নামতেই এই মডেলকে নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবে স্টল টানাপড়েন: হাইকোর্টে ধাক্কা বামেদের, মামলা ছাড়লেন বিচারপতি
তদন্তে নেমে লখনউয়ের বালু আড্ডা এলাকায় শ্রদ্ধার ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে নানারকমের বিতর্কিত ও যৌন ক্ষমতা বর্ধক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, শিব শর্মার মৃত্যুর সময় ফ্ল্যাটে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি অযোধ্যার দিকে পালিয়ে গিয়েছেন বলে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ধারণা করছে হজরতগঞ্জ পুলিশ।
আরও পড়ুন: পতনের নয়া রেকর্ড! জোড়া ফলার মরণকামড়ে ছারখার শেয়ার বাজার, মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রদ্ধা দুবে বিবাহিত ছিলেন। রায়বেরিলিতে স্বামী প্রিন্স দুবের সঙ্গে থাকতেন তিনি এবং তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে মোটা টাকা উপার্জন ও রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীকে ছেড়ে লখনউ চলে আসেন শ্রদ্ধা। সেখানে মডেলিং ও হাইপ্রোফাইল পার্টিতে যাতায়াত শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুষদের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি রবীন্দ্রনাথ! জামাতের 'ভিত্তিহীন' দাবি ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশ
শিব শর্মার মা রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ, শ্রদ্ধা তাঁর রাজনৈতিক ও উচ্চস্তরের প্রভাব খাটিয়ে শিবকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেল এবং মানসিক নির্যাতন করছিলেন। শিবের পরিবার আরও দাবি করেছে, মৃতদেহের শরীরে একাধিক মারধরের চিহ্ন ছিল এবং তাঁকে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শিব যখন ওপর থেকে নিচে পড়েন, তখন তাঁর শরীরে কেবল অন্তর্বাস ছিল এবং মুখে লিপস্টিক মাখানো ছিল।
শিবের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে, যা থেকে নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। এই হাইপ্রোফাইল মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর জোর দিচ্ছে।















