শারদোৎসব শুরু হয়ে গেলেও উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং নৈহাটিতে এখনও দলীয় প্রকাশনীর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি পায়নি সিপিএম। স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা এবং বাধার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বামেরা। তবে সোমবার সেই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

পুজোর মুখে বনগাঁ ও নৈহাটিতে প্রতি বছরের মতো এবারও বইয়ের স্টল দেওয়ার আবেদন করেছিল সিপিএম। দলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনগাঁর যশোর রোডের ধারে তারা স্টল করে আসছে। এবারও যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে কাঠ ও বাঁশ মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এক দল লোক সেই সব সামগ্রী সরিয়ে দিয়ে নিজেদের স্টল তৈরির উদ্যোগ নেয়। বাম কর্মীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নৈহাটিতেও একইভাবে পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় ক্ষোভ বাড়ে বাম শিবিরে।

প্রশাসনের তরফে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে সিপিএম নেতৃত্ব। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানান বামেদের আইনজীবী শামীম আহমেদ। আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, উপরমহলের নির্দেশের কারণেই পুলিশ ও প্রশাসন তাঁদের বইয়ের স্টল করতে দিচ্ছে না। তাই উৎসবের দিনগুলিতে প্রচার চালানোর স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন।

আবেদন শুনে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, বইয়ের স্টল বসানোর ক্ষেত্রে এতটা দ্রুততার কী কারণ রয়েছে? এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, দুর্গা পুজোয় অনুমতি না মিললে কালীপুজোর আগে স্টল বসানো যেতে পারে। আদালতের এই মনোভাব দেখে আইনজীবী আবেদন জানান, পুজোর পর শুনানির আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না। তাই দ্রুত শুনানি সম্ভব না হলে মামলাটি অন্য কোনও এজলাসে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। সেই আর্জি মেনে নিয়ে বিচারপতি জানান, তিনি মামলাটি ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে পুজো শুরু হয়ে গেলেও বামেদের বইয়ের স্টল বসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় কাটল না।