পুজোর আগেই পর্যটকদের দারুণ সুখবর দিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। কার্শিয়াং (Kurseong) থেকে মহানদী (Mahanadi) পর্যন্ত চালু হল দুটি বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা (Special Toy Train Service)। একটি বাষ্পচালিত ‘রেড পান্ডা’ এবং অন্যটি ডিজেলচালিত ‘মুক্তধারা’। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, সবুজ চা-বাগান এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের। ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনের (Toy Train) হাত ধরে পাহাড়ি পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: প্রাণের গান আর জমিয়ে নাচ! কানাডায় জমজমাট সৌমিত্রর অনুষ্ঠান

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী রেলপথ পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্র। বিশেষ করে দার্জিলিং (Darjeeling) থেকে ঘুম (Ghum Railway Station) পর্যন্ত টয়ট্রেনের যাত্রা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই আকর্ষণকে আরও বিস্তৃত করতেই কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত নতুন এই পরিষেবা চালুর উদ্যোগ। এই দুই ট্রয় ট্রেনে চেপেই পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকেরা। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এই দুই ট্রয় ট্রেনের সময়সূচীও প্রকাশ্যে এসেছে।

রেলসূত্রে খবর, ডিজেলচালিত ‘মুক্তধারা’ প্রতিদিন দুপুর ৩টে ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং স্টেশন থেকে মহানদীর উদ্দেশে রওনা দেবে। পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের পাশ দিয়ে চলার পর বিকেল ৪টে নাগাদ মহানদীতে পৌঁছবে ট্রেনটি। সেখান থেকে ফিরে বিকেল ৫টা নাগাদ কার্শিয়াং স্টেশনে পৌঁছনোর কথা। অন্যদিকে, বাষ্পচালিত ‘রেড পান্ডা’ পরিষেবাও কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত চালু করা হয়েছে। দার্জিলিং-ঘুম রুটের মতো এই দুই পরিষেবাকেও নিয়মিত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্শিয়াং রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রমেশ কুমার। উদ্বোধনের পর কার্শিয়াংয়ের একটি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের (School Student) টয়ট্রেনে আনন্দভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী রেলযাত্রায় পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে উচ্ছ্বসিত পড়ুয়ারাও। এই প্রসঙ্গে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রমেশ কুমার এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী রেলপথের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটকদের কাছে পাহাড়ের সৌন্দর্য ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পুজোর মরশুমে (Durga Pujo Season) পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। সেই সময় নতুন এই রেল পরিষেবা পর্যটকদের ভ্রমণের বিকল্প বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কার্শিয়াং ও সংলগ্ন এলাকার পর্যটন ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে ‘রেড পান্ডা’ ও ‘মুক্তধারা’।