দুর্গাপুজোর (Durga Puja) কাউন্টডাউন শুরু হতেই শিলিগুড়ির (Siliguri) কুমোরটুলিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও প্রতিমার গায়ে পড়ছে রঙের শেষ প্রলেপ, কোথাও চলছে সাজসজ্জার কাজ। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মণ্ডপের জন্য প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত এক করছেন মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যেও এ বছর যেন কিছুটা ম্লান তাঁদের মুখের হাসি। কারণ, প্রতিবেশী দেশ নেপাল (Nepal) থেকে এবার আসেনি দুর্গাপ্রতিমার (Durga Idol) কোনও বায়না।

আরও পড়ুন: বুকের রক্তে দুর্গার আরাধনা! ৪০০ বছরের খ্যাপা মায়ের পুজোয় আজও অটুট কঠোর নিয়ম

নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ায় ধাক্কা খেয়েছে শিলিগুড়ির প্রতিমাশিল্পীদের (Idol Maker)  উপার্জন (Income)। দীর্ঘদিন ধরেই নেপালের বিভিন্ন পুজো কমিটিতে শিলিগুড়ির কুমোরটুলির প্রতিমার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই নেপালের উদ্যোক্তারা এসে প্রতিমা বুক করে যেতেন। পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত পেরিয়ে শিলিগুড়ি থেকে অন্তত ২০টি দুর্গাপ্রতিমা নেপালে পাঠানো হত বলে জানাচ্ছেন শিল্পীরা। সেই অর্ডারের কথা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নিতেন অনেকে। কিন্তু এ বছর সেই পরিচিত ছবিটাই বদলে গিয়েছে।

সম্প্রতি নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুজোর আয়োজনেও। ফলে নেপালের পুজো কমিটিগুলির (Nepal Durga Pujo Committee) কাছ থেকে কোনও বায়না না আসায় আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়েছেন শিলিগুড়ির মৃৎশিল্পীরা। যে বাজার তাঁদের বাড়তি উপার্জনের সুযোগ করে দিত, এবার সেই বাজার কার্যত বন্ধ। শুধু নেপাল থেকে অর্ডার না আসাই নয়, প্রতিমা তৈরির খরচ বৃদ্ধিও চিন্তা বাড়িয়েছে শিল্পীদের। মাটি, খড়, রং-সহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় আগের তুলনায় প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে বেশি খরচ হচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে কারিগরদের মজুরি। অথচ বিক্রির সুযোগ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে স্থানীয় বাজারের উপরেই এখন নির্ভর করতে হচ্ছে শিল্পীদের। পুজোর আগে হাতে কাজ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না তাঁদের।

এক মৃৎশিল্পী জানান, প্রতি বছর এই সময়ে নেপাল থেকে পুজোর উদ্যোক্তারা এসে প্রতিমা বুক করে যেতেন। পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত দিয়ে গড়ে অন্তত ২০টি প্রতিমা নেপালে পাঠানো হত। কিন্তু এবার নেপালের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কোনও অর্ডার আসেনি। ফলে তাঁদের উপার্জনের সুযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির কাজ জোরকদমে চললেও শিল্পীদের মনে আর্থিক অনিশ্চয়তা।