রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (Rabindranath Tagore) ঘিরে নতুন করে বিতর্কে উত্তাল বাংলাদেশ (Bangladesh)। বিশ্বকবিকে নিয়ে জামাত-ই-ইসলামির (Jamaat-e-Islami) একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। জামাতের তরফে দাবি করা হয়, বিশ্বকবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। জামাতের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান (Md Rashed Khan)। তাঁর কথায়, যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরাই একসময় স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিতে চাননি। জামাতের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিসরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আরও পড়ুন: আপনার সঙ্গে পুরো সরকার আছে— অগ্নিমিত্রার পাশে দাঁড়িয়ে দৃঢ় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সামনের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ -সহ একাধিক বিশ্ববরেণ্য মনীষীর গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার পর রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ টেনে জামাত-ই-ইসলামির তরফে দাবি করা হয়, বিশ্বকবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। আর সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করেই সরব হয়েছেন রাশেদ খান।

আরও পড়ুন: দিল্লি থেকে বাংলা— ‘INDIA’ ব্লককে আটকাতে সর্বত্রই ট্রাফিক অচলের কারসাজি! বিস্ফোরক মমতা

সোমবার নিজের জেলা ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশেদ বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা তাঁদের দায়িত্ব। তাঁর অভিযোগ, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিএনপির ত্যাগ ও সংগ্রামের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সদিচ্ছার অভাব ছিল।

তবে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় আর্থিক মদতের অভিযোগও তুলেছেন তারেক-সহকারী। রাশেদের দাবি, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আয়াসকে চুনকালি কেনার টাকা দিয়েছিলেন জামাতের আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবীর। জুলাইয়ের নাম ব্যবহার করে বিতর্কিত সংগঠন ও কর্মকাণ্ডকে অর্থ এবং পরামর্শ দিয়ে মদত দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, শাহরিয়ার কবীরকে আড়াল করতেই আয়াসকে হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য মুছে ফেলতে বলা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জামাতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। এদিকে, গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

ইতিহাসের তথ্য কী বলছে? প্রচলিত একটি বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় আয়োজিত একটি সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এমনকী, পূর্ব বাংলার মানুষকে নিয়ে তিনি অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের জীবনপঞ্জি ও ঐতিহাসিক তথ্য এই দাবির সঙ্গে মেলে না। ১৯১২ সালের ২৪ মার্চ কলকাতা ছেড়ে শিলাইদহে চলে যান কবি। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি। ফলে ২৮ মার্চ কলকাতায় উপস্থিত থেকে কোনও সভায় সভাপতিত্ব করার দাবি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯২৬ সালে ঢাকা সফরে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। পরে ১৯৩৬ সালে তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে এই বিতর্ক ঠিক কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।