নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) ঘোষণার পরেই ফের ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নভানেথেম ‘নবি’ পিল্লাইকে (Navanethem Pillay) এ বছরের শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না তিনি। নরওয়ের (Norway) নোবেল কমিটির (Nobel Committee) সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ট্রাম্পের দাবি, এই সম্মান তাঁরই প্রাপ্য ছিল। তাঁকে পুরস্কার না দিয়ে আমেরিকাকেও অপমান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের জন্য নরওয়ের গায়ে চিরস্থায়ী কলঙ্কের দাগ থেকে যাবে।
আরও পড়ুন: আমেরিকায় গ্রিন কার্ডে বাধা, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রবাসে চাপে ভারতীয় IT কর্মীরা
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের সিরাকিউজে এক সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, পুরস্কারপ্রাপকের নাম তিনি আগে শোনেননি। তবে তাঁকে অভিনন্দন জানান। এরপরই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রতিনিধিত্বে এই পুরস্কার আমেরিকারই পাওয়া উচিত ছিল। নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকে ‘বিব্রতকর’ এবং ‘লজ্জাজনক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কয়েকজন চরমপন্থী মতাদর্শের মানুষের হাতে পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে।
দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা বারবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত থামাতে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে এই সম্মানের দাবিও করেছেন তিনি। তবে ২০২৬ সালেও তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হল না। নোবেল কমিটির একাংশ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ইচ্ছা, অভিবাসীদের বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
তাই আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই নবি পিল্লাইকে এই সম্মান দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন—দীর্ঘ কর্মজীবনে মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে তিনি নিজের সোনার পদক ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন।















