কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ অনুশীলনের পর ম্যারাথন জয় করার আনন্দই আলাদা। কিন্তু দৌড়ানোর ধকল এড়াতে যদি কেউ ম্যারাথনের মাঝপথেই সাইকেলে চেপে বসেন? ঠিক এমনই এক অদ্ভুত এবং বিতর্কিত কাণ্ড ঘটিয়ে নেটদুনিয়ার তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন চিনের এক জনপ্রিয় ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সর।

সান ইউয়ানইউয়ান (Yuanyuan Sun) নামের ৩০ বছর বয়সী ওই চিনা ইনফ্লুয়েন্সর, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অ্যাবির’ (Abeeeer) নামে পরিচিত, সম্প্রতি জার্মানির বিখ্যাত বার্লিন ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ৪ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে রেস শেষ করে নিজের ‘ব্যক্তিগত সেরা’ (Personal Best) রেকর্ড গড়ার দাবি করেন এবং ফিনিশ লাইনে মেডেল হাতে হাসিমুখে ছবিও পোস্ট করেন। চিনের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘রেডনোট’-এ (Rednote) তাঁর ৫ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার থাকায় মুহূর্তে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: বাংলা ছবির হিন্দি রিমেক! লকডাউনের ধাক্কায় অধরাই রয়ে গেল নানা পাটেকরের স্বপ্ন

সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু গোল বাঁধল ম্যারাথনের গতিবেগ ও সময় পরিমাপক ডেটা সামনে আসতেই। দূরপাল্লার দৌড়ে রানারদের পারফরম্যান্সের ওপর নজরদারি চালানো একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ—‘অফিসিয়াল ম্যারাথন টাইম ইন্টিগ্রিটি ইউনিট’ (OMTIU) সান ইউয়ানইউয়ানের রেসের বিশদ তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে অসঙ্গতি খুঁজে পায়।

দেখা যায়, ম্যারাথনের শেষভাগে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী পথটুকু তিনি মাত্র ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে পার করেছেন। এটি ছিল গোটা রেসে তাঁর দ্রুততম গতি এবং আগের ৫ কিলোমিটারের তুলনায় প্রায় ৬ মিনিট কম! সন্দেহ দানা বাঁধতেই তদন্ত শুরু হয় এবং ম্যারাথন চলাকালীন তোলা কিছু ছবি সামনে আসে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, প্রতিযোগিতার ট্র্যাকের ওপরই অন্য এক ব্যক্তির সাইকেলের পিছনে আরামে বসে পা ঝুলিয়ে রাস্তা পার করছেন সান। অর্থাৎ, প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ তিনি দৌড়ানোর বদলে সাইকেলে চেপে পার করেছিলেন।

আরও পড়ুন: বিকাশের পাশে দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে হাই কোর্টে সরব কল্যাণ

এই জালিয়াতির ছবি বিশ্বজুড়ে অ্যাথলেটিক্স মহলে শোরগোল ফেলে দেয়। সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বার্লিন ম্যারাথন কর্তৃপক্ষ সানের ফিনিশিং টাইম ও মেডেল বাতিল করে তাঁকে অযোগ্য (Disqualified) ঘোষণা করে।

শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, বড়সড় আর্থিক ও পেশাদারি ধাক্কাও খেয়েছেন এই চিনা ইনফ্লুয়েন্সর। ম্যারাথনে তিনি যে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড ‘ব্রুকস চায়না’ (Brooks China)-র জুতো ও পোশাক পরে দৌড়েছিলেন, সেই সংস্থা অবিলম্বে তাঁর সঙ্গে সমস্ত স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল করেছে। ব্র্যান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, তারা খেলাধুলোয় সততা ও নিয়মানুবর্তিতাকে সম্মান করে, তাই এই ধরণের জালিয়াতি কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। 

আরও পড়ুন: বিকাশের পাশে দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে হাই কোর্টে সরব কল্যাণ

চারদিক থেকে ধিক্কার ধেয়ে আসার পর নিজের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন সান। চিনা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে ক্ষমা চেয়ে তিনি লিখেছেন, “আমি কোনো অজুহাত দেব না। রেসের মাঝে আমার শরীর খুব খারাপ লাগছিল। তবে তার মানে এই নয় যে আমি নিয়ম ভাঙব। শর্টকাট নেওয়ার এই চেষ্টা ম্যারাথনের স্পিরিট ও বাকি প্রতিযোগীদের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মানজনক ছিল। আমি নিজের আচরণের জন্য গভীরভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত।”

লাইক আর ফলোয়ার বাড়ানোর চক্করে এই ধরণের সস্তা শর্টকাট যে কেরিয়ার নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে, সানের এই ঘটনা আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।