নারী বিদ্বেষী ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) কো-পাইলট (Co-Pilot) হামাম আল হামামিকে (Hamam Al Hammami)। তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই প্রকাশ্যে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা তাঁর পুরনো সমাজমাধ্যমের পোস্ট খতিয়ে দেখতেই সামনে এসেছে নারীদের নিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও হিংসাত্মক মন্তব্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে করা বহু পোস্টে নারীদের বিরুদ্ধে হিংসার সমর্থন এবং নারীবিদ্বেষী মনোভাবের ছাপ দেখা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে পোস্টার ঘিরে ধুন্ধুমার, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে ABVP-SFI

একটি পোস্টে হামাম লিখেছিলেন, নারীদের ‘পিষে ফেলা উচিত’ এবং ‘চড় মারা উচিত’। অন্য একটি পোস্টে এক মহিলাকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এই কো-পাইলট। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সমাজমাধ্যমের ২ হাজারেরও বেশি পোস্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেগুলিতে নারী, সমকামী এবং ধর্মীয় বিধি নিয়ে চরমপন্থী ও বিদ্বেষমূলক মতামত প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। হামামের বক্তব্যের মধ্যে নারীদের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং হিংসাকে সমর্থনের মনোভাবও উঠে এসেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এমনকি নারীদের যৌন নির্যাতনের পক্ষেও তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। 

৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার অভিযোগ ওঠে হামামের বিরুদ্ধে। আহত হওয়ার পরও ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানের অন্য সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। হামাম বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর অতীত, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখছে একাধিক দেশের তদন্তকারী সংস্থা।

এরই মধ্যে জেরায় হামাম নাকি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বিমানে হামলার ঘটনা আকস্মিক ছিল না। আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। গাজায় চলা সংঘাতের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি। যাত্রীদের সঙ্গে নিজেকেও শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

 তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামাম এর আগেও হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। জুলাই মাসে একটি পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করেছিলেন তিনি। তার আগে ইজরায়েলে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়ানে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি।