ফের উত্তপ্ত হল কলেজ ক্যাম্পাস। যাদবপুর (Jadavpur University), এসআরএফটিআইয়ের (SRFTI) পর এবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় (Raiganj University)। পোস্টার লাগানো ও ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে লাগানো পোস্টার ঘিরে এবিভিপি ও এসএফআইয়ের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজেও (Raiganj Medical College And Hospital) দু'পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ফের বচসা ও হাতাহাতি হয়।
আরও পড়ুন: বিয়ের দেড় মাসেই উদ্ধার প্রৌঢ়ার দেহ, পলাতক স্বামী
ঘটনায় দু’পক্ষের মোট ছ’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এসএফআইয়ের দু’জন এবং এবিভিপির চারজন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই ফের দু’পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একাধিক পোস্টার লাগিয়েছিল এসএফআই। অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সেই পোস্টারগুলি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার! পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস
এবিভিপির দাবি, ক্লাস চলাকালীন একদল বহিরাগত এসএফআই নেতা-সমর্থক ক্যাম্পাসে ঢুকে তাঁদের উপর হামলা চালান। রড ও লাঠি দিয়ে মারধরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে এসএফআই। অন্যদিকে এসএফআইয়ের বক্তব্য, তাদের লাগানো পোস্টার প্রথমে এবিভিপির সদস্যরাই ছিঁড়ে ফেলেন। এমনকী এক এসএফআই সমর্থককে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। সেই খবর পেয়ে সংগঠনের নেতারা ক্যাম্পাসে পৌঁছন। এরপরই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় বলে দাবি এসএফআইয়ের।
এবিভিপি নেতা জিৎ সরকারের অভিযোগ, “ক্লাস চলাকালীন ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে। রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীদের মধ্যে অধিকাংশই বহিরাগত।” অন্যদিকে এসএফআইয়ের রায়গঞ্জ টাউন সহ-সম্পাদক বিদেশ বর্মনের বক্তব্য, “জ্ঞানেশ কুমারের পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের এক ছাত্রকে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই খবর পেয়েই আমরা ক্যাম্পাসে গিয়ে আমাদের সহযোদ্ধাকে উদ্ধার করি।”
পোস্টারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক কীভাবে ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছল, তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ।















