রাজ্যে ডেঙ্গি (Dengue) পরিস্থিতি নিয়ে ফের বাড়ছে উদ্বেগ। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় (South 24 Parganas) ডেঙ্গিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯,৬০০। গত বছর একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার।

আরও পড়ুন: CPIM নিচ, BJP উদার! স্যোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য নারায়ণের

আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে এখনও শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। সেখানে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১,৬৩২। দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা (Kolkata)। শহরে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০৮ জন। এরপর রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩৭। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আক্রান্ত ৫৮৫ জন। নদিয়ায় ৫৮৩ এবং হুগলিতে ৫০২ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাইক-ট্যাক্সিতে বড় বদল, পেট্রোপণ্যে নিষেধাজ্ঞা মহারাষ্ট্রে!

ডেঙ্গির বিভিন্ন সেরোটাইপ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। চলতি বছরে শুরু থেকেই ডেন-২ এবং ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ডেন-২ এবং ডেন-৪ সেরোটাইপকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গি মোকাবিলায় রাজ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ১২টি এলাকাকে ডেঙ্গির হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্কুলগুলিতেও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতর, পুলিশ, পুরসভা-সহ ১৬টি দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।
মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে হওয়া বৈঠকে ডেঙ্গি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসনগুলিকেও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বর্ষার পরেও বিভিন্ন এলাকায় জমা জল, নিকাশি ব্যবস্থা এবং মশার লার্ভা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, সে দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং জমা জল সরানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।