রেজিনগর (Rejinagar) উপনির্বাচন (By-election) ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। ভোটে কারচুপি এবং বুথ দখলের অভিযোগ তুলে রেজিনগরের সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানালেন মমতা তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের (Returning officer) কাছে লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: কর্মাধ্যক্ষের মৃত্যুর পর ভোটাভুটি, বাধার মুখে তৃণমূলরা

রবিউলের দাবি, ৭০ নম্বর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ৩১৫টি বুথেই নতুন করে ভোট করানো হোক। তাঁর অভিযোগ, ভোটের দিন বিভিন্ন বুথ থেকে বিরোধী দলের এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার এজেন্টদের বুথে ঢুকতেই বাধা দেওয়া হয়েছে। রবিউলের আরও অভিযোগ, বহিরাগতদের ঢুকিয়ে পুলিশি সহযোগিতায় ছাপ্পা ভোট করানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, কুণাল মুখ খুললেন পুনর্নির্বাচন নিয়েও

শুধু এজেন্ট নয়, ভোটারদের নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন রবিউল। তাঁর দাবি, বহু ভোটার নিজেদের বুথে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের নামে আগেই ভোট পড়ে গিয়েছে। ফলে তাঁরা আর ভোট দিতে পারেননি। সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। রবিউলের দাবি, দিনের শুরুতে বেগুনবাড়ি অঞ্চলের কিছু বুথে ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, একের পর এক বুথ থেকে দলের এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেজিনগরের সব বুথের ভোট বাতিল করে ফের ভোট নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন মমতা তৃণমূল প্রার্থী। ঘটনা নিয়ে নিজের সমাজমাধ্যমেও সরব হয়েছেন রবিউল। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে হননি। বিজেপির বিরুদ্ধে কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটে জেতার চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

রেজিনগরের রাজনীতিতে রবিউল আলম চৌধুরীর দীর্ঘ পরিচয় রয়েছে। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। পরে কংগ্রেস এবং তৃণমূল, দু'দলের প্রার্থী হিসেবেই রেজিনগর থেকে আরও দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে বেলডাঙা কেন্দ্র থেকে লড়ে পরাজিত হন তিনি।