জাতীয় রাজনীতির চেনা ‘রিসর্ট’ সংস্কৃতির নাটকীয় মঞ্চায়ন এ বার মালদহে। ভিন্‌রাজ্যে সদস্যদের সরিয়ে রাখা, মাঝরাতে স্টেশনে নেমে পুলিশের অভিযান এবং শেষ মুহূর্তের নাটকে ভেস্তে গেল কংগ্রেসের সাজানো ছক। সমস্ত হিসাব উল্টে দিয়ে মালদহ জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি। সভাধিপতি হলেন বিজেপির দীপিকা বালা।

ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহ-সভাধিপতি আবু তৈয়ব রফিকুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন দলেরই ১৯ জন সদস্য। অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন দেন কংগ্রেসের পাঁচ সদস্য। তলবি সভা ঘিরে টালবাহানার জেরে মামলা পৌঁছয় কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের হস্তক্ষেপে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সদস্যদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার বার্তা পায় প্রশাসন।

ভোটাভুটির আগে পরিষদ নিজেদের দখলে রাখতে সক্রিয় হয়ে ওঠে কোতোয়ালি ভবন। সাগরিকা সরকারকে সভাধিপতি করার লক্ষ্যে ২৪ জন সদস্যকে ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের এক রিসর্টে নিয়ে যান কংগ্রেস নেতৃত্ব। পুরো অভিযানের নেপথ্যে ছিলেন কংগ্রেসনেত্রী মৌসম বেনজির নুর। যদিও কংগ্রেসনেত্রী মৌসম বেনজির নুর দাবি করেছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল তাদের সঙ্গেই ছিল বিজেপিকে রুখতে। তবে সোমবার গভীর রাতে সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশেষ ট্রেনে সেই সদস্যদের মালদহে ফিরিয়ে আনার পরেই ধাক্কা খায় পরিকল্পনা। ট্রেন স্টেশনে ঢুকতেই তিন জন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হাত শিবির।

মঙ্গলবার সকালে জেলা পরিষদে উপস্থিত ৩০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে নির্বাচন পর্ব শুরু হয়। বিজেপি সভাধিপতি পদে দীপিকা বালার নাম প্রস্তাব করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কংগ্রেস। প্রশাসনিক কারচুপির অভিযোগে সভা বয়কট করে তারা কক্ষত্যাগ করে। কংগ্রেস বেরোতেই কক্ষে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সমর্থনে বিজেপির প্রস্তাব অনায়াসেই পাস হয়ে যায়। গঠিত হয় পদ্ম শিবিরের নতুন বোর্ড।

বিজেপির জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, কোনও দল না ভেঙে জেলার থমকে থাকা উন্নয়নের স্বার্থেই এই ফল এসেছে। অন্য দিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নাটকীয় পটপরিবর্তনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেসই। পুরনো শক্ত ঘাঁটিতে জেলা পরিষদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে ঘুরে দাঁড়ানোর যে বড় সুযোগ হাত শিবিরের সামনে ছিল, শেষ মুহূর্তের পদক্ষেপে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হল।