চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকেই শুরু হতে চলেছে জনগণনা ২০২৭-এর দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের সামাজিক, আর্থিক ও জনতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করবেন গণনাকর্মীরা (Counting Agent)। সেই প্রস্তুতি জোরদার করতে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ২২টি জেলা ও সাতটি পুরনিগমের জন্য প্রায়  ১৯৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সেনসাস সেল। এই অর্থ গণনাকর্মীদের সাম্মানিক মেটানো-সহ জনগণনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হবে।

সরকারি সূত্রের খবর, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রথমে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব ও গোয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বাকি রাজ্যগুলিতে একই প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

দেশজুড়ে এই পর্যায়ে প্রায় ৩৪ লক্ষ গণনাকর্মী এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা যুক্ত থাকবেন। তাঁদের জন্য ধাপে ধাপে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে নাগরিকদের সঙ্গে শালীন ও সংযত আচরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে লিঙ্গ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা ও আয় সংক্রান্ত স্পর্শকাতর প্রশ্ন করার সময় যাতে কোনও নাগরিকের অনুভূতিতে আঘাত না লাগে, সে বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করা হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও নাগরিক কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে না চাইলে গণনাকর্মীরা তাঁকে চাপ দিতে পারবেন না। আবার নাগরিকের দেওয়া তথ্য বা নথির সত্যতা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনও বিতর্কেও জড়ানো যাবে না। তথ্য সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াতেই নিরপেক্ষতা ও ভদ্রতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে। 
আরও পড়ুন: প্রচারই সার! রাজ্যে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত, তিনদিনের ব্যবধানে জোড়া প্রাণহানি

রাজ্য সরকারের (State Government) জারি করা বরাদ্দ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই অর্থ সংশ্লিষ্ট জেলার প্রিন্সিপাল সেনসাস অফিসারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। জনগণনা সংক্রান্ত সমস্ত কাজ শেষ হওয়ার পরে ব্যয়ের হিসাব ও ব্যবহার শংসাপত্র জমা দিতে হবে। অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে।

কেন্দ্রের লক্ষ্য, জনগণনা ২০২৭-এর তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দেশের জনবিণ্যাস, সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই এখন জোরকদমে চলছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি।