মাঝ-আকাশে ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, ঠান্ডা মাথায় গোটা উড়ানটিকেই যাত্রী-সহ ধ্বংস করার চক্রান্ত ছিল। ফ্লাই দুবাইয়ের ককপিটে কুঠার দিয়ে সহকর্মীকে আক্রমণের ঘটনায় সৌদি তদন্তকারীদের জেরায় এমনই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিল অভিযুক্ত সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি। তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে ওমানের এই নাগরিক স্পষ্ট জানিয়েছে, যাত্রী সমেত বিমানটি গুঁড়িয়ে ফেলাই তার উদ্দেশ্য ছিল। শুধু তা-ই নয়, এই ঘটনার জন্য তার কোনও অনুশোচনা নেই জানিয়ে অভিযুক্তের ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাবি, সে মৃত্যুকে ভয় পায় না। আমেরিকার সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে সৌদি তদন্তকারী সূত্রের বয়ান তুলে ধরে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

গত বুধবার দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ওই উড়ানে মাঝ-আকাশে নাটকীয় ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্দিষ্ট পথ বদলে বিমানটিকে হঠাৎই সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে হামাম। ককপিটে বসে বিষয়টি নজরে আসতেই তৎক্ষণাৎ বাধা দিতে এগিয়ে যান প্রধান পাইলট স্মিত। তখনই ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার হাতে তুলে নিয়ে সহকর্মীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামাম, এলোপাথাড়ি কোপ বসায় স্মিতের শরীরে। রক্তাক্ত অবস্থাতেও অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি। বিমানের অন্য কর্মীদের সহায়তায় হামামকে নিরস্ত করা সম্ভব হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিপদ এড়িয়ে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

ঘটনার পর থেকেই উড়ানের অন্দরে এমন রক্তারক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে অনেকেই অনুমান করেছিলেন, দুই চালকের পুরনো কোনও ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই হয়তো এমন হিংসাত্মক কাণ্ড। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই তত্ত্ব সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এটি কোনও সাধারণ বচসা বা শত্রুতা নয়, বড়সড় নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যেই বিমানটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়েছিল হামাম।