প্রশান্ত মহাসাগরে ফের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি। ‘নোলো’ (Nolo) ইতিমধ্যেই শক্তিশালী টাইফুনে (Typhoon) পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পেরিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ঢোকার পরই বদলে গিয়েছে ঝড়টির পরিচয়। এর আগে এই একই ঝড়কে ‘হারিকেন নোলো’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। আগামী কয়েক দিনে নোলোর গতিপথ কোন দিকে যায়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে আজও বৃষ্টির পূর্বাভাস, পুজোর আগে বর্ষা বিদায় নিয়ে সংশয়!
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রথমে পশ্চিমমুখী হওয়ার পর উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নিতে পারে টাইফুন নোলো (Typhoon Nolo) । ১০ অক্টোবরের আশপাশে জাপানের (Japan) দক্ষিণের সমুদ্রাঞ্চলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে ঝড়টি। তবে এখনও পর্যন্ত জাপানের কোনও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার পূর্বাভাস নেই। ফলে এই মুহূর্তে উপকূলের তুলনায় সমুদ্র পরিস্থিতি নিয়েই বেশি সতর্কতা রয়েছে।
নোলো শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বেশ দ্রুত গতি দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পার হওয়ার আগে ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার বিশ্লেষণে সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭৬ কিলোমিটার হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। যদিও আগামী দিনে ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে পারে নোলো।
‘হারিকেন’ থেকে ‘টাইফুন’ হওয়ায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও দু’টি আলাদা ধরনের ঝড় নয়। একই ধরনের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়কে অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। উত্তর আটলান্টিক এবং মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এমন ঝড়কে বলা হয় হারিকেন। আর উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে একই ঝড় পরিচিত টাইফুন নামে। সেই কারণেই ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা বা আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পেরিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ঢোকার পর নোলোর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘টাইফুন’।
এদিকে শক্তিশালী নোলোর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের কেন্দ্রের আশপাশে প্রবল হাওয়া এবং বড় ঢেউ তৈরি হতে পারে। ফলে সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলির জন্য পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জাপানের দক্ষিণের সমুদ্রাঞ্চলে নোলোর গতিপথ ও শক্তির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
তবে এখনই আতঙ্কের কারণ দেখছেন না আবহবিদরা। কারণ বর্তমান পূর্বাভাসে স্থলভাগে সরাসরি আঘাতের ইঙ্গিত নেই এবং সময়ের সঙ্গে নোলোর শক্তি কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিনে নোলো কতটা শক্তি ধরে রাখে এবং কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।














