বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারত ছাড়িয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও। ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। পর্দায় ও পর্দার বাইরে আজীবন সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া এই শিল্পীর মৃত্যুতে কাঁটাতারের সীমানা ভুলে শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেট তারকারা।
আরও পড়ুন: “সার্কাসের জন্তুর মতো আচরণ...”, শিল্ড ফাইনালে ডার্বি হেরেই বিস্ফোরক হাবাস
১৯৯৪ সালের কালজায়ী ছবি ‘ক্রান্তিবীর’-এ দুই ধর্মের মানুষের হাত কেটে রক্ত বের করে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সংলাপ— “ইয়ে হিন্দু কা খুন, ইয়ে মুসলমান কা খুন... বতা এতে কোনটা হিন্দু আর কোনটা মুসলমানের?”—আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই রক্ত ও মানবতার দর্শনই তাঁকে ভারত-পাকিস্তান নির্বিশেষে কোটি কোটি মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন দিয়েছিল।
যে অভিনেতা ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় সমস্ত ফিল্মি কেরিয়ার সরিয়ে রেখে ভারতীয় সেনাদের পাশে দাঁড়াতে সীমান্তে চলে গিয়েছিলেন, আজ তাঁর মৃত্যুতে কেঁদে উঠেছে পাকিস্তানের আপামর চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে পাকিস্তানি অনুরাগীরা নানার অভিনয় ও তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: দাউদের দাদাকে খুন করেছিলেন নানা পাটেকরের ভাই! বাস্তবেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ছিল যোগ?
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার বসিত আলি ও উমর আকমল অত্যন্ত আবেগঘনভাবে নানা পাটেকরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বসিত আলির সঙ্গে নানার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এক গভীর পারিবারিক ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। বসিত আলির মা যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন নানা প্রতি সপ্তাহে ফোন করে তাঁর খোঁজ নিতেন এবং মার সঙ্গে গল্প করতেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি নিয়মিত বসিতকে আগলে রেখেছিলেন। বসিত আলি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, “নানা ভাই সিনেমায় যেমন ছিলেন, বাস্তব জীবনেও ঠিক ততটাই অসাধারণ মানুষ ছিলেন। ১৯৯৪ সাল থেকে আমাদের যে সম্পর্কের শুরু, তা কোনওদিন ফিকে হয়নি।”
প্রাক্তন পাকিস্তানি ব্যাটার উমর আকমলও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাকে ‘লিভিং লেজেন্ড’ বা জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীদের জমা দিতে হবে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড, জারি নির্দেশিকা
শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও নানা পাটেকর সবসময় জাত-পাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কথা বলতেন। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মুসলিম প্রধান এলাকাগুলিতেও তিনি গভীর রাতে নির্দ্বিধায় হেঁটে বেড়াতেন এবং সেখানকার বাসিন্দারা তাঁকে পরম মমতায় আপন করে নিতেন। তাঁর মা তাঁকে শিখিয়েছিলেন, উপাসনা পদ্ধতি ছাড়া হিন্দু আর মুসলমানের রক্তে ও মানুষে কোনও তফাত নেই।
অভিনয়ের জাদুতে আর সম্প্রীতির বজ্রকণ্ঠে উপমহাদেশকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা সেই অনন্য ‘ক্রান্তিবীর’ চলে গেলেও তাঁর আদর্শ ও বার্তা দুই দেশের মানুষের বুকেই আজীবন জ্বলজ্বল করবে।















