বলিউডের পর্দায় যখনই কোনো গ্যাংস্টার বা রাগী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে নানা পাটেকর অভিনয় করতেন, তাঁর চোখ-মুখের অভিব্যক্তি আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে দর্শকরা শিউরে উঠতেন। পর্দায় অপরাধ জগতের এই নিখুঁত চিত্রায়নের পেছনে অভিনেতার বাস্তব জীবনের এক গভীর পারিবারিক যোগসূত্র ছিল। মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত ডন মান্য সুর্ভে বা মনোহর সুর্ভে ছিলেন নানা পাটেকরের আপন মামাতো ভাই। এই মান্য সুর্ভেই ১৯৮১ সালে দাউদ ইব্রাহিমের বড় ভাই শাবির ইব্রাহিম কাসকরকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। 

আরও পড়ুন: “গেরুয়ার ভয়ে করি গেরুয়ার জয়গান!” অরিজিৎ-এর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে কীসের ইঙ্গিত? তুঙ্গে জল্পনা

কুখ্যাত এই গ্যাংস্টারের সঙ্গে নানা পাটেকরের পারিবারিক সম্পর্ক এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসে শিউরে উঠছেন মানুষ। 

আশির দশকে মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাং-এর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিলেন মান্য সুর্ভে। ১৯৮১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রভাদেবী এলাকার একটি পেট্রল পাম্পে দাউদ ইব্রাহিমের বড় ভাই শাবির কাসকরকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেন মান্য সুর্ভে ও তাঁর সহযোগীরা। এই ঘটনা পুরো মুম্বইয়ের অপরাধ জগৎকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং দাউদ গ্যাংয়ের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: শীতের কলকাতায় ভোজিনহা! মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশ্বকাপার পাঠালেন বিশেষ উপহার

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ১৯৮২ সালের ১১ জানুয়ারি ওয়াডালা এলাকায় মুম্বই পুলিশের চালানো প্রথম অফিশিয়াল এনকাউন্টারে মান্য সুর্ভে নিহত হন। এই সত্য ঘটনা অবলম্বনেই পরবর্তীতে বলিউডে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ সিনেমাটি তৈরি হয়েছিল। 

অনেকেই মনে করেন নানা পাটেকরের নিজের ভাই অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে এটি ভুল ধারণা। মূলত তাঁর মামাতো ভাই মান্য সুর্ভের কারণে শৈশব থেকেই অপরাধ জগতের পরিবেশ খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন নানা। এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, পরিস্থিতির ফেরে তিনিও হয়তো আন্ডারওয়ার্ল্ডে জড়িয়ে যেতে পারতেন। তবে তিনি অপরাধের অন্ধকার পথ বেছে না নিয়ে থিয়েটার, কমার্শিয়াল আর্ট এবং অভিনয়কে নিজের জীবন হিসেবে বেছে নেন। 

আরও পড়ুন: ১০ ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, JNU থেকে বরখাস্ত অধ্যাপক

অপরাধ জগতের সঙ্গে নানার ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি বেদনাদায়ক সংযোগ রয়েছে। ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ দাউদ ইব্রাহিমের মদতে ঘটা মুম্বই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে একটি বাসে যাতায়াত করার সময় বিস্ফোরণের মুখে পড়ে নানা পাটেকর তাঁর নিজের আপন ভাইকে হারান। এই কারণে তিনি আজীবন আন্ডারওয়ার্ল্ড ও এর মদতদাতাদের তীব্র ঘৃণা করে এসেছেন। 

অভিনয় জগতে নিজের অসাধারণ প্রতিভা দিয়ে পরিচয় তৈরি করলেও, মুম্বইয়ের অন্ধকার ইতিহাসের একটি বড় অধ্যায়ের সঙ্গে নানা পাটেকরের পারিবারিক নাম চিরকাল জড়িয়ে থাকবে।