মাঝরাতে হঠাৎ করে অসুস্থতা, সকাল হতে না হতেই সব শেষ। গোয়াতে প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar)। 'পরিন্দা', 'অগ্নিসাক্ষী', 'ক্রান্তিবীর'-এর সুবাদে তিনটি জাতীয় পুরস্কার জয়ী শিল্পীর আকস্মিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারছে না অনুরাগী থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের তারকারা। বলিউডের (Bollywood) মতো শোকের ছায়া টলিপাড়াতেও। অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ (Goutam Ghosh)। আজ বারবার তাঁর স্মৃতিচারণায় শ্যুটিংকালীন নানা মুহূর্ত। নানার সঙ্গে অভিনয়ে করার সুযোগ না মেলার আক্ষেপ রয়ে গেল ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর (Rituparna Sengupta)। মন খারাপ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়েরও।

কখনও হাসি মশকরা আবার কখনও খুব গুরুগম্ভীর ভঙ্গিমায় কঠিন সমস্যার কথা তুলে ধরা - সবেতেই নিজস্বতার ছাপ ছিল অভিনেতার মধ্যে। মিঠুন চক্রবর্তী বলছেন, 'আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। সুস্থ ছিল।খুব সাধারণ জীবন যাপন করত। বড় মাপের অভিনেতা ছিল। চলচ্চিত্র জগতের অপূরণীয় ক্ষতি।' এদিন সকালে শ্যুটিং করছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। নানার (Nana Patekar) প্রাণের খবর শুনে চমকে ওঠেন। তিনি বলেন, " এর চেয়ে খারাপ খবর হতে পারে না। সকালে এই খবরটা পেয়ে মনটা খারাপ হয়ে আছে। কাজ করছিলেন উনি। সুস্থ ছিলেন। শুধু অভিনেতা ছিলেন না, শিক্ষক ছিলেন। ভারতবর্ষের সিনেমার ধারা বদলে দিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল বলেছিলেন, ভালো কাজ করছ। ওই সময় দাঁড়িয়ে 'প্রহার' পরিচালনা করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দক্ষতা। 'খামোশি' আমার চিরকালের প্রিয় ছবি।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলছেন, 'নানা পাটেকারে চলে যাওয়া দুঃখজনক। উনার মত এত বড় বাপের পারফরমার এবং বড় মনের মানুষের এভাবে চলে যাওয়াটা সত্যি মানতে কষ্ট হয়। উনার অভিনীত ছবির বাংলা রিমেকে কাজ করেছি। কিন্তু আক্ষেপ রয়ে গেল ওনার সঙ্গে অভিনয় করতে পারলাম না। ওনার কাজ দেখে চিরকাল অনুপ্রাণিত হব।' বলিউডের ক্রান্তিবীরের সঙ্গে যাত্রা সিনেমায় কাজ করেছেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। তিনি প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ফিরে গেছেন শ্যুটিং পিরিয়ডের নস্টালজিয়ায়। বলেন, 'আমাদের দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা ছিলেন। ভীষণ মজাদার মানুষ এবং অসম্ভব মেথড অ্যাক্টর। চরিত্রের মধ্যে পুরোপুরি ঢুকে যেতেন। প্রায় ৩০ বছরের পরিচয় আমার সঙ্গে। সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে যাত্রা সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। একেবারে বন্ধুর মতো ছিলেন। নিঃশব্দে অনেক মানুষকে সাহায্য করেছেন যে কথা হয়তো অজানাই থেকে যাবে।'

গোয়াতে প্রয়াত হলেও ইতিমধ্যেই নানা পাটেকরের মরদেহ মুম্বইতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শোকের ছায়া বলিউডে। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম খ্যাতনামা অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীরা। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্বরাও শোকবার্তা দিয়েছেন।