মেয়েদের দেখলে কথা বলতে ভয় পেতেন, বুক ধড়ফড় করত—সম্প্রতি অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানার পাশে বসেই নিজের এই পুরনো দুর্বলতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবরকোন্ডা। তাঁদের বাস্তব জীবনের রসায়ন নিয়ে চর্চার শেষ নেই, তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের ছোটবেলা ও বোর্ডিং স্কুলের একেবারে ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন এই তারকা জুটি।

আরও পড়ুন: কোথায় কত দাম পেট্রোল ডিজেলের দেখে নিন এক নজরে

পর্দার ‘অর্জুন রেড্ডি’ বা বাস্তব জীবনের ড্যাশিং হিরো—বিজয় দেবরকোন্ডাকে দেখে কুপোকাত লাখো তরুণী। কিন্তু এই বিজয়ই নাকি একটা সময় মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে চরম ভয় পেতেন! মেয়েদের দেখলেই রীতিমতো বুক ধড়ফড় করত তাঁর। সম্প্রতি জীবনসঙ্গী তথা অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানার পাশে বসেই নিজের জীবনের এই অজানা দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করলেন অভিনেতা।

আরও পড়ুন: কত দর আজ সোনা রুপোর দেখে নিন এক নজরে

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজেদের ছোটবেলার দিনগুলি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিজয় ও রশ্মিকা। দুজনেরই শৈশব কেটেছে বোর্ডিং স্কুলে, তবে সেই অভিজ্ঞতা ছিল পরস্পরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

বোর্ডিং স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে যখন বিজয় বাড়িতে ফেরেন, তখন থেকেই মূলত এই সমস্যার শুরু। অভিনেতা জানান, সেই বয়সে স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের প্রতি তাঁর এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু মেয়েদের সঙ্গে ঠিক কী উপায়ে কথা বলতে হয়, তা তিনি একেবারেই জানতেন না। অবস্থা এতটাই চরম ছিল যে, প্রথম দুই বছর তিনি কোনও মেয়ের সঙ্গে কথাই বলতে পারেননি।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে ভোটদান মুখ্যমন্ত্রীর, বুথে হাজির বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি

স্মৃতিচারণ করে বিজয় বলেন, “স্কুলের বাসে মেয়েরা যখন আমার সঙ্গে কথা বলতে আসত, আমি লজ্জায় বা ভয়ে জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকতাম।” মজার বিষয় হল, মেয়েরা বিজয়ের এই লাজুক আচরণকে বেশ আকর্ষণীয় মনে করতেন এবং ইচ্ছা করেই তাঁর পাশে এসে গল্প করার জন্য ডাকতেন। কিন্তু বিজয় কিছুতেই মেয়েদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারতেন না। জানলার বাইরে তাকিয়েই উত্তর দিতেন এবং সেই সময় তাঁর বুক ধড়ফড় করত।

পরবর্তীকালে কলেজে পড়ার সময় নিজের এই অদ্ভুত ভয় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন বিজয়। তিনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন, “এত ভয় পাওয়ার কী আছে?” এরপর বি.কম পড়ার সময় কলেজে যে প্রথম সুন্দরী মেয়েটিকে তিনি দেখেছিলেন, সরাসরি তাঁর সামনে গিয়ে কথা বলে নিজের সেই ভয় দূর করেছিলেন অভিনেতা।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে বহিরাগতদের দিয়ে ভোট করানোর অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কংগ্রেস প্রার্থীর

পাশেই বসা রশ্মিকা মন্দানার ছোটবেলার লড়াই অবশ্য ছিল অন্যরকম। বিজয়ের মতো মেয়ে বা ছেলেদের নিয়ে ভীতি না থাকলেও, রশ্মিকার মূল সমস্যা ছিল ভাষা নিয়ে। শৈশবে তাঁর প্রথম ভাষা ছিল তামিল। ফলে কুর্গের স্কুলে গিয়ে যখন তাঁকে হঠাৎ ইংরেজিতে কথা বলতে বলা হত, তিনি ভয়ে ও আড়ষ্টতায় একেবারে চুপ হয়ে যেতেন। কেউ ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই তিনি থমকে যেতেন, কিছুই বলতে পারতেন না। এমনকি সিনেমা জগতে আসার পরেও ভাষা ও উচ্চারণ নিয়ে তাঁকে কম ট্রল বা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। যদিও রশ্মিকার দাবি, এই ধরনের সমালোচনায় তিনি এখন আর দমে যান না।

বাস্তব জীবনের এই মিষ্টি জুটিকে খুব শীঘ্রই রূপোলি পর্দায় একসঙ্গে দেখতে পাবেন দর্শক। রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামা ‘রণবালি’ ছবিতে ফের একসঙ্গে জুটি বাঁধছেন বিজয় ও রশ্মিকা।