সুরের জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী বিভা সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী শ্রাবণী সেন তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: এসপি-আপের সৌজন্যে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন!
১৯৩২ সালের ১২ মে ত্রিপুরার আগরতলায় জন্মগ্রহণ করেন বিভা সেনগুপ্ত। সেখানেই তাঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রাথমিক তালিম শুরু হয়। ১৯৫৯ সালে তিনি কলকাতায় আসেন এবং প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মায়া সেনের কাছে গান শেখা শুরু করেন। পরবর্তীতে মায়া সেনই তাঁকে কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে নিয়ে যান। দেবব্রত বিশ্বাস ও মায়া সেনের সুযোগ্য শিষ্যা হিসেবে বিভা সেনগুপ্ত আজীবন রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপির শুদ্ধতা ও সাবলীল গায়কী বজায় রেখেছিলেন। ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি’, ‘আমি হেথায় থাকি শুধু’, ‘এসেছিলে তবু আসো নাই’-এর মতো বহু রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর কণ্ঠে শ্রোতাদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিতের পথেই হরমনপ্রীত! সেরা সময়েই ছাড়়লেন ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব
বিভা সেনগুপ্ত প্রচার ও প্রতিযোগিতার আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই ভালোবাসতেন। রেডিও বা টেলিভিশনের আকর্ষণের চেয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান সঠিক রূপে পৌঁছে দেওয়াকেই তিনি জীবনের ব্রত করেছিলেন। সাগর সেন প্রতিষ্ঠিত ‘রবিরশ্মি’ সংস্থায় তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন এবং তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘অমিতায়ন’-এর মাধ্যমে বহু ছাত্রছাত্রী তৈরি করে গেছেন।
তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতজগতে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গীতশিল্পী অলক রায়চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বরই ‘লোকভারতী’ সংস্থার পক্ষ থেকে বিভা সেনগুপ্তের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তখনও তিনি অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল ছিলেন। কোনরকম প্রচারের আলোয় না এসেও আজীবন যেভাবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ধারাকে টিকিয়ে রেখেছেন, তা অবিস্মরণীয়।
আরও পড়ুন: ডেকার্স লেনের ‘চিত্তবাবু’ এবার হেরিটেজ! তকমা পাচ্ছে বাংলার আরও ৭ চায়ের দোকান
শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন শ্রাবণী সেনও। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রথমবার বিদেশে গান গাইতে যাওয়ার সময় আমার ভীষণ ভয় করছিল। সেই সময় বিভামাসির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। বিদেশে গান গাইতে যাচ্ছি শুনে মাসি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। ছোট ছোট ঘটনাতেও তাঁর আনন্দ ছিল সীমাহীন। কাছের মানুষদের সাফল্যকে নিজের সাফল্যের মতো করেই উদযাপন করতেন তিনি।’
দুপুর ১২টা নাগাদ কলকাতার ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সের বাসভবনে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাঁর গুণমুগ্ধ ও ছাত্রছাত্রীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর এই প্রয়াণে বাংলার রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটি যুগের অবসান ঘটল।















