কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের জীবনে ট্র্যাজেডির অভাব ছিল না। তবে তাঁর জীবনের অন্যতম বড় একটি মানসিক ধাক্কা এসেছিল তাঁর বড় ছেলে অমিত কুমারের বিয়েকে কেন্দ্র করে। ১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসে অমিত কুমারের ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন কিশোর কুমার। কিন্তু বিয়ের ঠিক ১০ দিন আগে এমন এক সত্য সামনে আসে, যা গায়কের হৃদয়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে গবেষণা! চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
১৯৮১ সালের ২৪ জানুয়ারি অমিত কুমারের বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। গোটা বলিউডকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন কিশোর কুমার। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগে পাত্রীপক্ষের এক চরম প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার খবর সামনে আসে। জানা যায়, যে পাত্রীর সঙ্গে অমিতের বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তিনি আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। এই চরম সত্যটি পাত্রীপক্ষ সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিল।
পারিবারিক জীবনকে সবসময় ভালোবাসতেন কিশোর কুমার। ছেলের একটি সুন্দর সংসারের স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। পাত্রীপক্ষের এই জঘন্য প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি এই মেলোডি কিং। বিয়ের ঠিক ১০ দিন আগে এই ঘটনার কারণে আকস্মিকভাবেই পুরো বিয়ে বাতিল করতে হয়।
আরও পড়ুন: মায়ানগরী মুম্বই বিদায়! সন্তানকে নিয়ে পাহাড়ের বুকে ইয়ামি ও আদিত্য
ছেলের জীবনের এই চরম বিপর্যয় এবং হবু পুত্রবধূর পরিবারের এমন প্রতারণায় কিশোর কুমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি এতটাই অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন যে, জেদ ধরে বসেন ২৪ জানুয়ারিই তিনি কলকাতা উড়ে যাবেন এবং ছেলের জন্য অন্য পাত্রী ঠিক করবেন। কিন্তু এই তীব্র মানসিক চাপ ও ক্ষোভ সহ্য করতে পারেনি তাঁর শরীর। কলকাতায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি হৃদরোগে (Heart Attack) আক্রান্ত হন এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই হৃদরোগে আক্রান্ত হবার পর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয় এবং ১৯৮৭ সালে তিনি প্রয়াত হন।
আরও পড়ুন: "লকেটের থেকেও ভালো অভিনেত্রী কোয়েল"! চরম কটাক্ষ কুণালের
অবশেষে ২১ বছর পর অমিত কুমার ২০০২ সালের ২৪ জুন রিমা গঙ্গোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন। কিশোর কুমারের বর্ণিল জীবনের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা এই গভীর ক্ষত ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাটি দীর্ঘদিন পর এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জনসমক্ষে এনেছিলেন পুত্র অমিত কুমার।















