পর্দায় তিনি যতটাই দৃঢ়চেতা এবং সাহসী হোন না কেন, বাস্তবে তিনি একজন অত্যন্ত সংবেদনশীল মা। টলিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় তাঁর একমাত্র মেয়ে অন্বেষা সেনের (মানি) বিদেশযাত্রার আগে এক চরম আবেগঘন মুহূর্তের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন। লেখাপড়া ও চাকরির সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে থাকেন অন্বেষা। প্রতিবারের মতো এবারও ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সময় এক বুক মন খারাপ গ্রাস করেছে মা ও মেয়ে দুজনকেই।

আরও পড়ুন: জয়শঙ্করের সতর্কবার্তা: জ্বালানির পর এবার রান্নাঘরে যুদ্ধের ধাক্কা! বাড়তে পারে খাদ্যপণ্যের দাম

সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি জানান, বিদায়লগ্নে তাঁর মেয়ে অন্বেষা ক্রমাগত ফুপিয়ে কেঁদে চলেছেন। স্বস্তিকা লেখেন, “গতকাল রাত থেকে মেয়েটা খুব কাঁদছে”। অন্বেষা এর আগে মুম্বাই এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার জন্য দীর্ঘদিন বাইরে কাটিয়েছেন। কতবার তিনি যাতায়াত করেছেন, কিন্তু বিদায়ের আগে তাঁর এমন মন খারাপ করতে কখনও দেখেননি অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: ল্যাবে ভাঙল টেস্টটিউব! প্লেগের জীবাণু ছড়িয়ে আতঙ্ক রাশিয়ায়

মেয়ের এই কান্না দেখে স্বাভাবিকভাবেই মন হুহু করে উঠছে অভিনেত্রীরও। তবে মায়ের শাশ্বত স্বভাব মেনে মেয়ের সামনে নিজেকে সামলে রেখে অত্যন্ত ‘প্রাকটিক্যাল’ বা বাস্তববাদী দেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ছবির বাবাদের মতো স্বস্তিকাও অন্বেষাকে সান্ত্বনা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, “এই তো এতদিন থাকলাম, আবার আসব, তারপর তুই ও তো বাড়ি যাবি সামনের বছর, আর এই কটা মাস, দেখবি হুশ করে কেটে যাবে, মানি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেই চলেছে। সেই কত ছোট থেকে বাইরে থাকে, বম্বে তারপর ইংল্যান্ড। এতবার এসছি, কখনও এর চেয়ে বেশিদিন থেকেছি কখনও অনেক কম, এমন মন খারাপ করতে কখনও দেখিনি।”

আরও পড়ুন: এল নিনোর দাপট, রবি ফসল নিয়ে আশঙ্কা রাজ্যে

স্বস্তিকা ও অন্বেষার এই মিষ্টি ও গভীর সম্পর্কের রসায়ন ভক্তদের কাছে নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টটি আসার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে তা বেশ সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অভিনেত্রীর অনুরাগীরা এই আবেগঘন বার্তার নিচে ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। অনেক মা-ই নিজেদের সন্তানদের দূরদেশে পাঠানোর একই রকম বেদনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন কমেন্ট বক্সে। সন্তানকে ছেড়ে দীর্ঘদিন দূরে থাকা যে কতটা কষ্টের স্বস্তিকার এই পোস্ট যেন আরও একবার সেই বাস্তবকে সামনে এনে দাঁড় করাল।