বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর অনুরাগী থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম— সবার নজর ছিল অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তর (Tanushree Dutta) প্রতিক্রিয়ার দিকে। হতাশ করেননি তনুশ্রীও। নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর শোনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম (Instagram) হ্যান্ডেলে তীব্র ক্ষোভ ও পরিহাস মেশানো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। অভিনেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, তাঁর মৃত্যুকে ‘ইভিল ডেড’ (Evil Dead) বা ‘শয়তানের মৃত্যু’ বলে অভিহিত করেছেন এই বাঙালি অভিনেত্রী।
বৃহস্পতিবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় তনুশ্রী বলেন, “আমি খবরটা শুনেছি। আজ আমার কাজের দিন, লখনউতে একটি বড় ইভেন্টে যাচ্ছি এবং আমি সেটার ওপরই মনোযোগ দিতে চাই। তবে আজ একটা অদ্ভুত দিন। আমি চিন্তিত যে সন্ধ্যা হতেই সব মিডিয়া এই ‘ইভিল ডেড’ নিয়ে কথা বলতে চাইবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিষয়ে তাঁর ঠিক কেমন প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত তা তিনি ভেবে দেখছেন, তবে পাটেকরের পরিবারের প্রতি তাঁর সমবেদনা রয়েছে। অন্য একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “শয়তানের অবসান হলো” (Evil died)।
আরও পড়ুন: নজরুল মঞ্চে 'জাগোবাংলা উৎসব সংখ্যা' অনুষ্ঠানের অনুমতি মেলেনি! ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূল সুপ্রিমোর
নানা পাটেকর ও তনুশ্রী দত্তর এই বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি বিশেষ গানের শুটিং চলাকালীন তনুশ্রী অভিযোগ করেন যে, নানা পাটেকর নাচের স্টেপ শেখানোর বাহানায় তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং অনুপযুক্ত স্পর্শ করেছিলেন। তনুশ্রীর দাবি ছিল, ওই ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য তাঁর চুক্তির অংশ ছিল না। প্রতিবাদ করায় সে সময় তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
দীর্ঘদিন পর, ২০১৮ সালে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী দত্ত পুনরায় এই ঘটনাটি সামনে আনেন। তাঁর এই সাহসিকতা বলিউড তথা গোটা ভারতে ‘মিটু’ (#MeToo) আন্দোলনের জোয়ার এনেছিল, যার ফলে বহু প্রথম সারির ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে নারীরা মুখ খোলার সাহস পান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি সন্দেহে দু’মাস আটক কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা আদালতের
২০০৮ সালে সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনে (CINTAA) অভিযোগ জানানোর পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে তনুশ্রীর আইনজীবী মুম্বইয়ের ওশিওয়ারা থানায় নানা পাটেকরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। তবে শুরু থেকেই নানা পাটেকর এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এসেছিলেন এবং তনুশ্রীকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ২০১৯ সালের জুনে মুম্বই পুলিশ আদালতে ‘বি-সামারি’ রিপোর্ট জমা দিয়ে নানা পাটেকারকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।
আইনিভাবে নানা পাটেকর ক্লিনচিট পেলেও তনুশ্রীর মনের ক্ষোভ যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা অভিনেতার মৃত্যুর পর অভিনেত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যেই পরিষ্কার। একদিকে যখন বলিপাড়ার বহু তারকা বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করছেন, ঠিক তখনই তনুশ্রীর এই ‘শয়তানের মৃত্যু’ মন্তব্যটি সমাজমাধ্যমে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।















