বাংলাদেশি (Bangladeshi) সন্দেহে এক ব্যক্তিকে প্রায় দু’মাস ধরে আটকে রাখা নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানতে চায়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কীভাবে কাউকে এতদিন আটক রাখা যায়। একইসঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, “গত শতকের সাতের দশকে যাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে এসেছিলেন, তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?”

আরও পড়ুন: ভাঙন-বন্যায় বিপর্যস্ত ভূতনি পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে ২৪২ কোটি টাকা সহায়তার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গত ৮ অগস্ট বাংলাদেশি সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে ভারত থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলার শুনানিতে তাঁর দীর্ঘদিন আটকে থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। সেইসময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সত্তরের দশকে যাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব? সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গিয়ে দেখুন, এটা আদৌ সম্ভব কি না।’’ আদালত আরও জানায়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনও ব্যক্তিকে আটকে রাখা যায় না।

ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের দেওয়া বয়ানের ভিত্তিতেই বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের বক্তব্য, কাউকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আগে তাঁর জাতীয়তা সংক্রান্ত যথাযথ তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তাঁর দাবি, জাল নথি ব্যবহার করে ওই ব্যক্তি প্যান ও আধার কার্ড তৈরি করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে ভারত থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানায় রাজ্য।

এদিকে মামলাটি চলাকালীনই ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-এর তরফে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করা হয় বলে আদালতে জানানো হয়। রাজ্যের পক্ষ থেকে আবেদনকারীকে এফআরআরও-তে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হলেও তা খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারপতির বক্তব্য, যেহেতু পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে, তাই আটকের বিষয়ে পুলিশেরই জবাবদিহি করতে হবে। এদিন আদালত আরও জানায়, এই বেঞ্চের এই মামলা শোনার এক্তিয়ার নেই। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বরের বহিষ্কারের নির্দেশ আপাতত স্থগিত থাকবে। আগামী ১৪ অক্টোবর মামলাটি বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বেঞ্চেই বর্তমানে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে।