নদীভাঙন ও প্লাবনে বিপর্যস্ত মালদহের ভূতনিতে গিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে গঙ্গার জল ও ভাঙনে বিপন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তা থেকে খাবার, পোশাক ও পুনর্বাসন একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাত আড়াইটায় বন্ধুকে মেসেজ, ভোরে চিরবিদায়ঃ বিপদ বুঝতে পেরেছিলেন নানা?
বাড়িঘর হারানো পরিবারগুলির জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দেওয়া হবে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, আর অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতির মুখে পড়া পরিবারগুলির জন্য বরাদ্দ থাকবে ৯০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে খাবার, পোশাক ও মশারি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পুজোর আগে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের কাছে এই সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণশিবিরগুলিতে থাকা মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার দেওয়ার ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ২৫টি রান্নাঘর চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু মানুষের জন্য নয়, জলবন্দি এলাকার গবাদি পশুর খাদ্য নিয়েও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কৃষি, সেচ এবং মৎস্য দপ্তরকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: উপনির্বাচনে ছাপ্পা-ধাপ্পা-জুমলা! তীব্র আক্রমণ মমতার, ফের সরব SIR-এর নাম বাদ নিয়ে
তবে ত্রাণের পাশাপাশি নদীভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহের পরিস্থিতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব IIT কানপুরকে (IIT Kanpur) দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে NABARD এবং ADB-র মতো আর্থিক সংস্থার সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের নদীভাঙন এবং বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রের কাছেও প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মালদহে পৌঁছনোর আগে আকাশপথে দুর্গত এলাকাগুলি ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। নদীর গতিপথের পরিবর্তন, বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়া এবং ভাঙনের অভিঘাত সরেজমিনে দেখার পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব, ত্রাণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: বিহার থেকে বেঙ্গালুরু, বৃহস্পতিতেও দেশজুড়ে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন- প্রতিবাদ কর্মসূচি
শুধু আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা নয় পুজোর আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতেও বিশেষ উদ্যোগের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মহালয়া ও ষষ্ঠীর আগেই মালদহের প্রায় ১,২৪৮ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের লক্ষ্যে কাজ এগোবে। একদিকে তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণ, অন্যদিকে নদীভাঙনের স্থায়ী মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ সংস্থার পরিকল্পনা দুই দিকেই জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন ঘোষিত প্রকল্পগুলি কত দ্রুত মাটিতে কার্যকর হয়, তার দিকেই তাকিয়ে ভাঙনকবলিত মালদহের মানুষ।















