রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবস্থান একেবারে বিপরীত মেরুতে। কিন্তু সিপিএম নেতা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার, কালীঘাটের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মমতা জানান, এই বিষয় নিয়ে বিকাশের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। অবশ্য সকালেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (X-Handle) এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বুধবারই পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য পুলিশের State Crime Records Bureau (SCRB)-এর রিপোর্ট প্রসঙ্গ তুলে মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যে “রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট নৈরাজ্য“ চলছে।

এদিন দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারে অপসারণ চেয়ে 'ইন্ডিয়া' ব্লকের আন্দোলনে যোগ দিতে রওনা হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের সৌজন্যের নজির স্থাপন করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। এদিন ভোরে প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikashranjan Banerjee) বাড়িতে হামলা হয়। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “আমি বিকাশদার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। আমি আজ এখানে থাকলে হয়ত যেতাম, আমি বলেছি ফিরে এসে আমি যাব৷ এই অ্যাটাক আমরা মানছি না। যে যে পার্টিই করুক না কেন। কোনও অ্যাটাক আমরা মানব না৷”

এই প্রসঙ্গে SCRB রিপোর্টের উদাহরণ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে গত ৫ মাসে ২৪৫৪টি ধর্ষণ, ৬০০টি খুন, ১৩,১১৪টি খুনের চেষ্টা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর আঘাতের ঘটনা ঘটে সেখানে যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে সেটা বোঝাই যায়। 
আরও পড়ুন: ভোরে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা, থানার দ্বারস্থ প্রাক্তন মেয়র!

এর আগে সকালে বামনেতার বাড়িতে আক্রমণের ঘটনার নিন্দা করে নিজের স্যোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন মমতা। লেখেন, “বারুইপুর আদালত, ব্যাঙ্কশাল আদালত, চন্দননগর এবং শালবনির ঘটনার পরে এ বার কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে। ভিডিয়োতে পাওয়া প্রমাণ স্পষ্ট করে দেয় যে, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি এই ধরনের হামলাকারীদের মনোভাব কতটা উদ্ধত ও বেপরোয়া।“ তাঁর কথায়, “এটা সত্যি যে, বিগত ১৫ বছরে বিকাশদা এবং আমরা আদর্শগত ও আইনি পার্থক্যের কারণে প্রায়শই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছি। তবে শালীনতার সীমা কখনও লঙ্ঘিত হয়নি। সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কিন্তু আজ সংসদ থেকে বিধানসভা, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সংস্থা থেকে আদালত প্রাঙ্গণ—সর্বত্রই ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। নিজে একজন আইনজীবী হিসেবে সংহতি জানানোর ভাষা আমি খুঁজে পাচ্ছি না, তবে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।“ একে ‘আইনহীনতা’, ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট নৈরাজ্য’ বলে নিশানা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।