রাজধানীর বুকে প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতর (ওএইচসিএইচআর)। বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের গণহারে আটক করার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ছাড়া যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার দাবিও তুলেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা।

শনিবার দিল্লিতে বড় আকারে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল CJP। তাতে সামিল হয় বিরোধী দলগুলিও। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগে এবং চলাকালীন দফায় দফায় বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিবৃতি দেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান। তিনি স্পষ্ট জানান, জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার প্রতিটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্তম্ভ। সেই অধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালানোর যে খবর উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে ভারতীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আর্জি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বক্তব্য, কোনো বিক্ষোভের উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করার আগে দেখতে হবে তা আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত এবং প্রয়োজন। পরিস্থিতির তুলনায় পুলিশি পদক্ষেপ যেন অতিরিক্ত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রের উদ্দেশে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর পরামর্শ দিয়েছে মানবাধিকার দফতর। তাদের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, একটি বৃহৎ অংশের নাগরিক যখন কোনো বিষয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, তখন বলপ্রয়োগ করে কণ্ঠরোধ করার নীতি সঠিক নয়। বরং আন্দোলনকারীদের দাবি ও ক্ষোভের কারণ গুরুত্ব সহকারে শুনে অবিলম্বে অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসা এবং সমাধানের পথ খোঁজাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। দিল্লির এই গণবিক্ষোভ ও ধরপাকড়ের জল আন্তর্জাতিক মঞ্চে গড়ানোয় অস্বস্তি বাড়ল কেন্দ্রের।