ভোটারদের মন জয় করতে অভিনব প্রচার কৌশল নিয়েছিলেন তিনি। নাগরিকদের সম্পত্তি কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে বেছে নিয়েছিলেন বলিউডের (Bollywood) জনপ্রিয় গান। কিন্তু সেই গান ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। কেউ প্রশংসা করলেও অনেকেই আবার মজার ছলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার মুখে সমাজমাধ্যম থেকে সেই ভিডিও সরিয়ে ক্ষমা চাইতে হল কানাডার (Canada) মিসিসাগা শহরের মেয়র পদপ্রার্থী দীপিকা ডামেরলাকে (Dipika Damerla)।

আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবে স্টল টানাপড়েন: হাইকোর্টে ধাক্কা বামেদের, মামলা ছাড়লেন বিচারপতি

মিসিসাগার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ দীপিকা। বর্তমানে শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি। এবার মেয়র পদে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে প্রচারে নতুনত্ব আনতে চেয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেত্রী। সেই ভাবনা থেকেই বলিউডের জনপ্রিয় গান ‘ক্যায়া হুয়া তেরা ওয়াদা’-কে প্রচারের হাতিয়ার করেন দীপিকা। গানের কথার আদলে তৈরি করেন একটি ভিডিও। সেখানে তাঁর মূল বার্তা ছিল, মেয়র নির্বাচিত হলে নাগরিকদের সম্পত্তি কর বাড়তে দেবেন না। মিসিসাগায় সম্পত্তি কর বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগকেই প্রচারের কেন্দ্রে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। ‘দীপিকা ডামেরলা ফর মিসিসাগা মেয়র’ নামের সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তা ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: অগাস্টের পর সেপ্টেম্বরেও বাড়ল খুচরো মূল্যস্ফীতি, চাপে আমজনতা

তবে ভাইরাল হওয়া মানেই যে প্রশংসা পাওয়া নয়, তা বুঝতে দেরি হয়নি তাঁর। ভিডিওটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশের কাছে প্রচারের এই ধরন আকর্ষণীয় মনে হলেও অনেকে তা নিয়ে হাসাহাসি শুরু করেন। সমালোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণেরও মুখে পড়তে হয় মেয়র পদপ্রার্থীকে।

বিতর্ক বাড়তেই এক্স হ্যান্ডেলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন দীপিকা। তাঁর বক্তব্য, প্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে বিদ্রূপ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়েছে। সমালোচনা মেনে নেওয়া সম্ভব হলেও কিছু মন্তব্যের ভাষা ঘৃণা ও বিদ্বেষের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, পরিবারের পক্ষে এ ধরনের মন্তব্য সহ্য করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন দীপিকা। তবে এই ঘটনায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারে কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভোটের লড়াইয়ে অভিনব কৌশল কতটা কাজে আসে, তা সময়ই বলবে।