এসআইআর (SIR) নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালকে (Manoj Kumar Agarwal) নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে আগেই মহুয়াকে ১০ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। এবার মহুয়া মৈত্রের সমাজমাধ্যমে করা দু’টি পোস্ট মুছে ফেলার জন্য এক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠাল কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) গোয়েন্দা বিভাগ। তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের পরেও নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও পোস্টই মুছবেন না তিনি।

আরও পড়ুন: নতুন শিল্প বিনিয়োগ টানতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ রাজ্যের

এক্স হ্যান্ডলে কলকাতা পুলিশের নোটিশের প্রসঙ্গ তুলে মহুয়া লেখেন, আমি পোস্ট সরাচ্ছি না। ভোট চোরের কাছ থেকে নির্দেশ নেওয়া বন্ধ করুন। লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালি ভোটারের ভোট চুরিতে সহায়তা করার দায়ে তাকে জেলে যেতেই হবে। আমার কথা লিখে রাখুন। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩ ও ৬ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে করা মহুয়া মৈত্রের দু’টি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ। ওই পোস্টগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব তথা প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত সম্পর্কে মিথ্যা, আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

 

গত ১০ অক্টোবর কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ)-এর তরফে পাঠানো ওই নোটিশে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দু’টি দ্রুত মুছে ফেলা অথবা সেগুলির নাগাল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা সাইবার থানায় এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেনারেল ডায়েরি নম্বর ২১৬/২৬-এর ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ওই পোস্টগুলির মাধ্যমে দুই সরকারি আধিকারিক সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সম্মানহানির আশঙ্কা রয়েছে। নোটিশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ৩৫২ এবং ৩৫৩(১)(বি), ৩৫৩(১)(সি) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯(৩)(বি) ধারা এবং ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিধির কথাও বলা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের তরফে এক্স কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।

 

এই বিতর্কের সূত্রপাত এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। আইনি নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজের অন্যতম কারিগর হিসেবে মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিহ্নিত করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকী, তাঁকে ‘ভোট চোর’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছিল বলে নোটিসে উল্লেখ রয়েছে।

মনোজকুমার আগরওয়ালের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। আইনি নোটিশে মহুয়া মৈত্রকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত দু’টি পোস্ট প্রত্যাহার করার পাশাপাশি প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি টাকা এবং আইনি খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। কিন্তু সেই আইনি চাপের মধ্যেও পোস্ট মুছতে নারাজ মহুয়া।