দুর্গাপুজোর (Durga Pujo) মণ্ডপের কাছে সিপিএমের অস্থায়ী বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে বিতর্ক। নৈহাটি, বনগাঁ এবং যশোর রোড সংলগ্ন এলাকায় বইয়ের স্টল (Book Stalls) বসাতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলাতেই এবার পুলিশের (Police) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পুজোর সময় যশোর রোডে কাদের অস্থায়ী স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও চেয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন: মোদির অনুষ্ঠান, আইপিএল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত বিসিসিআইয়ের

বুধবার মামলার শুনানিতে বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, বেলুন-বন্দুকের স্টল বসতে পারলে বইয়ের স্টল বসবে না কেন? ওখানে তো আর লটারির দোকান বসবে না। আদালতের প্রশ্ন, এক পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না? অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বেছে বেছে কাউকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলেও মনে করেছে আদালত।

সিপিএমের অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল বসিয়ে আসছে তারা। প্রায় আড়াই দশক ধরে চলে আসা সেই প্রথা এ বছর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ অন্য একটি সংগঠনকে একই এলাকায় স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বামেদের। তাদের বক্তব্য, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ যদি স্টল বসানোর অনুমতি পেয়ে থাকে, তা হলে সিপিএমকে কেন অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না? এই অভিযোগ তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, একটি পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হবে, অথচ অন্যদের দেওয়া হবে না—এমনটা ঠিক নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর এ ভাবে দাবিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র। তাঁর বক্তব্য, এই মামলা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত নয়। তাই বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়া উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানোর আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী। অ্যাডভোকেট জেনারেলের আরও বক্তব্য, স্টল বসানোর অনুমতি চেয়ে সিপিএম মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জায়গাটি পূর্ত দফতরের অধীনে হওয়ায় অনুমতির জন্য ওই দফতরের কাছেই আবেদন করা উচিত ছিল। ফলে পূর্ত দফতরের অনুমতি নিয়ে কারা সেখানে স্টল বসাচ্ছেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানান, মামলাটি তিনি ছাড়বেন কি না, তা বিবেচনা করবেন। তবে তার আগে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট নিতে চান তিনি। পূর্ত দফতরের অনুমতি নিয়ে কারা বইয়ের স্টল বসাচ্ছেন, সেই তথ্যও রিপোর্টে জানতে চেয়েছে আদালত। এর আগে সোমবার শুনানিতে আদালত প্রস্তাব দিয়েছিল, দুর্গাপুজোর সময় স্টল বসানোর অনুমতি না মিললে কালীপুজোর সময় স্টল বসানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সেই প্রস্তাবের পর মামলাকারীদের আইনজীবী মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। মঙ্গলবার দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বুধবার ফের মামলাটির শুনানি হয়। সেখানেই পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট তলবের নির্দেশ দেয় আদালত।