পুজোর পরেই ৭ পুরসভায় ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে শুক্রবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন (WB Election Commission)। যেহেতু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আগেই ঘোষণা করেছেন যে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভার (KMC) নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে তাই প্রশাসনিক সূত্রে খবর নভেম্বরের শেষেই পুরভোট করতে চাইছে রাজ্য সরকার (Govt of West Bengal) । পরবর্তী পর্যায়ে জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় দফার পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলায় শাসকের পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করতেই সেখানে আপাতত প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে ভোট করিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে। সেই মতো মহানগরীতে নভেম্বরের শেষে পুরভোট হতে চলেছে। এলাকা পুনরবিন্যাস এর ফলে কলকাতায় ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৯। পাশাপাশি একইসঙ্গে হাওড়াতেও পুর ভোট হওয়ার আভাস আগেই পাওয়া গেছিল। সূত্রের খবর সংশ্লিষ্ট জেলার পাঁচটি পুরসভার ভোট ও কলকাতার সঙ্গে করানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও তিনক্ষণ চূড়ান্ত করা যায়নি। সম্ভবত সেই সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনায় আজকের বৈঠকে হতে চলেছে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কালিম্পং ও কার্শিয়াং জেলাতেও পুরবোর্ড সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। হাওড়া ও কলকাতাতে সম্ভবত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই ভোট করানোর তোড়জোড় চলছে।
ইতিমধ্যেই পুরভোটের কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, আসন সংরক্ষণ ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে।সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বর মাসের শেষেই পুরভোট (Corporation Vote) নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অবস্থান জানাবে রাজ্য সরকার। আজ সাত জেলার ডিএম-দের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। পুজোর আগেই প্রশাসনিক স্তরে প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে রাখতে তৎপর নবান্ন। সূত্রের খবর পরবর্তী পর্যায়ে জানুয়ারি মাসে দার্জিলিং, ঝাড়গ্রাম, আসানসোল, বিধাননগর পুরসভার ভোট হতে পারে। বাকি ১১৭ টি পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের মার্চ এপ্রিল মাসে। এখন এভিএম এর অপ্রতুলতা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন অবশ্য বৃহস্পতিবার রাজ্যকে ২১১৮৪ ব্যালট ইউনিট এবং ১৯৫৬৪ কন্ট্রোল ইউনিট দিয়েছে বলে খবর মিলেছে।। কিন্তু একাধিক ইলেকশন পিটিশনের জেরে যেভাবে বিপুলসংখ্যক ইভিএম (EVM) আটকে রয়েছে সেই মামলার নিষ্পত্তিতে হাইকোর্ট কমিশনকে কোনও নির্দেশ দেয় কিনা সে দিকেও নজর রয়েছে। পাশাপাশি আজ বৈঠক শেষে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কী জানায় এখন সেটাই দেখার।
















