ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি এক সেনাকর্মীর। মিজোরামের কোলাসিব জেলার এই ঘটনায় ২৯ বছরের সেনাকর্মী জাকারিয়া লালহরিয়াতলুয়াঙ্গাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে দুই নাবালকও। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। অসম রেজিমেন্টে কর্মরত জাকারিয়া জম্মু ও কাশ্মীরে পোস্টেড ছিলেন। ছুটি নিয়ে তিনি বন্ধু জন লালতানপুইয়ার সঙ্গে ট্রাকে করে লেংপুই বিমানবন্দর থেকে নিজের গ্রাম নিউ বুইলুমে ফিরছিলেন।
বুয়ালপুই ও থিংডলের মধ্যবর্তী ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩০৬-এ তাঁদের ট্রাকের সঙ্গে অন্য একটি গাড়ির যাত্রীদের বচসা শুরু হয়। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ভুল দিক দিয়ে চলছিল বলে অভিযোগ। ট্রাকচালককে দাঁড়াতে বলেন জন। সেই সময় কাওনপুই থেকে একটি পিক-আপ গাড়িতে করে প্রায় ২০ জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই যুবকেরা একটি হকি দলের সদস্য। তাঁরা থিংডলের কাছে একটি পিকনিক রিসর্ট থেকে ফিরছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে জাকারিয়ার উপরও হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। জন সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছনো তাঁদের বন্ধু লালচাওলিয়ানাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে জাকারিয়ার পরিবার। তাঁর মা লালথাজোভি জানিয়েছেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। জাকারিয়া জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাবেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলে না ফেরায় ফের ফোন করেন তিনি। তখন রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন জাকারিয়া। এর কিছুক্ষণ পরেই লালচাওলিয়ানা ফোন করে হামলার খবর দেন। লালথাজোভির কথায়, “দেশের স্বার্থে যে ছেলে এত দূরে থাকত, ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছিল, বাড়ি পৌঁছনোর আগেই দুষ্কৃতীদের হাতে তার এমন পরিণতি হবে—এটা আমরা ভাবতেই পারছি না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা জাকারিয়ার জন্য ন্যায়বিচার চাই।”
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে অসম রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন জাকারিয়া। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় কনিষ্ঠ। পরিবারের দাবি, তিনিই ছিলেন পরিবারের মূল উপার্জনকারী। বাড়িতে আছেন তাঁর ৬০ বছরের মা এবং ৮০ বছরের বাবা ভিএল ডুয়াইলোভা, যিনি একসময় পাদ্রি ছিলেন, বয়সের কারণে এখন আর উপার্জন করতে পারেন না। জাকারিয়ার ছোট ভাই স্টিফেন লালরিনংঘেটা দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন জাকারিয়া। এমনকী বাড়ি তৈরির জন্য তিনি ঋণও নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই নাবালক রয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
















