বাংলার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে একমঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জয় বাংলা' (Joy Bangla) স্লোগান গৌতম আদানির (Gautam Adani) মুখে। বৃহস্পতিবার এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকলেও নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২। আদানি আরোগ্য মন্দিরের ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভয় মুক্ত উন্নয়নশীল রাজ্যের প্রশংসা করতে দেখা গেল আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানকে। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প বিনিয়োগের ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় গোটা দেশ এখন পূর্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আগামিতে রাজ্যে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ভাবনার কথা জানিয়ে বাংলার প্রতিভা, সম্ভাবনা ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরলেন আদানি। বক্তব্যের শেষে সম্পূর্ণ বাংলায় বললেন, "বাংলা জাগবে, বাংলা এগোবে। বাংলার শক্তি ভারতের গতি।" এরপরই তাঁর মুখে শোনা যায়, 'জয় বাংলা' স্লোগান। মমতার আমলে এই স্লোগানের জনপ্রিয়তাকে বারবার 'বাংলাদেশি' তকমা দেওয়া বিজেপি নেতৃত্বের সামনেই বিশিষ্ট শিল্পপতির এই শব্দদ্বয় উচ্চারণ, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় শিল্পের জন্য ভয় মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান থেকে সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে বাংলা আজ নজর কেড়েছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে 'ভূমিপুত্র' বলে উল্লেখ করে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান জানান, 'রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নশীল পশ্চিমবঙ্গের শিল্প কর্মযজ্ঞে সামিল আদানি গোষ্ঠীও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দের বাংলা চিরকাল তার সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, সংস্কৃতি ও প্রতিভা দিয়ে ভারতকে সমৃদ্ধশালী করেছে। বাংলার ইতিহাস বারবার তার যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। আজ গোটা ভারত পূর্বের দিকে তাকিয়ে কারণ বাংলা এবার আরও এক নতুন অধ্যায় তৈরি করতে প্রস্তুত। আদানি গোষ্ঠী বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেই অধ্যায়ের শরিক হতে চায়। আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের সূচনা করলো আদানি আরোগ্য মন্দির।'
আরও পড়ুন: ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন কেন? কমিশনের নিরপেক্ষ হওয়া উচিৎ: ‘খাম’ ইস্যুতে তীব্র ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
শিল্পপতি এদিন জানিয়েছেন, বন্দর, পণ্য পরিবহন,বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিমেন্ট কারখানা নির্মাণ, হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে সেতু- সড়ক নির্মাণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হবে। হাসপাতাল নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাভজনক সংস্থা নয় বরং মানুষকে উন্নত পরিষেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে বিশ্বমানের প্রযুক্তি দিয়ে এই হাসপাতাল তৈরি হবে। বিনিয়োগ করা হচ্ছে চার হাজার কোটি টাকা। ২০০০ বেডের মধ্যে ১০০০ থাকবে গরিবদের জন্য। এটি মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে হিসেবে গড়ে উঠবে। অন্তত দশ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্বল্প সময়ের মধ্যে গৌতম আদানির বক্তব্যের মূল ভিত্তি ছিল রাজ্যের বুকে শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরির বার্তা দেওয়া। তিনি বুঝিয়ে দেন, কোনও একটা প্রতিষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে বাংলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। একদিকে স্বাস্থ্য পরিষেবা যখন জীবন বাঁচাবে, তখন শিল্প পরিকাঠামো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এখান থেকেই আদানি গোষ্ঠীর বাংলার প্রতি বৃহত্তর অঙ্গীকারের সূচনা হবে বলেও জানিয়েছেন গৌতম। ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে বুঝিয়ে দেন, ভারতের শক্তি লুকিয়ে রয়েছে বাংলার অগ্রগতিতেই। মুখ্যমন্ত্রী এরপর জানান, এই রাজ্যে শিল্পকে পুনরায় জাগরিত করে তুলতে গোটা আদানি পরিবার বাংলায় বড় মাপের বিনিয়োগে আগ্রহী। প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর দুটি আলাদা MOU স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও এ দিন জানানো হয়।
















