কৃষি পাম্প বৈদ্যুতিক সংযোগে অতিরিক্ত ভর্তুকির সুবিধে দিতে কৃষকের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Govt of West Bengal)। কৃষকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সুলভে উপহার দিতে রাজ্য সরকারের অভিনব উদ্যোগের সূচনা করবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটা নাগাদ পূর্ব বর্ধমান পুলিশ লাইনে প্রশাসনিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ। এই কর্মসূচির পরেই রাঢ় বঙ্গের আদি অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার সুপ্রাচীন মন্দিরে পুজো দিতে যেতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এর আগে দেশের একাধিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেশ কয়েকজন রাজ্যপাল এবং প্রতাপশালী নেতা-মন্ত্রীরা দেবী সর্বমঙ্গলার দরবারে আশীর্বাদ নিতে গেলেও, রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই মন্দিরে পুজো দেননি। খুব স্বাভাবিক ভাবেই শুভেন্দুর এই সফরকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছে বর্ধমান জেলা প্রশাসন। 

আরও পড়ুন: সিকিমের তুষারপাতে পর্যটনে আশা, ধসের জেরে বিপত্তি দার্জিলিং-সিকিম রুটে!

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৃষকের উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে সোনালী ফসল ফলাতে এবার সুলভে প্রতি ইউনিটে, দু টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। এতে কৃষকদের ফসল ফলাতে খরচ কমবে এবং আয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সহজ ও সাশ্রয় বিদ্যুৎ কৃষিকাজকে সমৃদ্ধশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিটে ২ টাকা কম খরচে সেচ দেয়ার অর্থ কৃষকের চিন্তার অবসান, আর কৃষি ক্ষেত্রে উন্নতি মানেই গ্রাম ও রাজ্যের উন্নতি এমনটাই মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যুৎ দফতর।

তবে এই দিনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটতে চলেছে প্রশাসনিক সভার পরে। কারণ ৩০০ বছরের ইতিহাস বদলে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেবেন শুভেন্দু। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা চোখে পড়েছে।পুজো শেষে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশেষ মহাপ্রসাদ ও ভোগের আয়োজন করা হচ্ছে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য জানেন, "ভোগে থাকছে খাসচালের সাদা ভাত, সুগন্ধি বাসন্তী পোলাও, সুক্তো, ছানার ডালনা, দেবীর অতি প্রিয় 'বিশেষ মাছভোগ' অর্থাৎ রুই মাছের টক, চাটনি, পায়েস, সাদা রসগোল্লা এবং পঞ্চব্যঞ্জন (পাঁচ রকম ভাজা)। এর সঙ্গে অবশ্যই নিবেদন করা হবে বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বখ্যাত মিহিদানা ও সীতাভোগ।" নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আজ সাধারণ মানুষের জন্য মন্দিরের ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি, সকাল ১১টা থেকে মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।