শরতের আকাশে চেনা সাদা মেঘের সারি নিম্নচাপ আর ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় মুখ লুকোলেও অসময়ে তুষারপাতে আশা জাগালো সিকিম। যদিও পাহাড়ের সামগ্রিক ছবি খুব একটা স্বস্তির নয়। শীত আসার আগেই সিকিমের উঁচু এলাকাগুলি ঢেকে গিয়েছে বরফে।জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ডংকিয়ালা রোড জুড়ে বরফ। শরতের এমন বিরল দৃশ্যে খুশি পর্যটক থেকে ব্যবসায়ীরা। তবে দার্জিলিং থেকে বিরুটে বৃষ্টির জেরে একাধিকবার ধস নামায় বাড়ছে উদ্বেগ। ফের বিপর্যস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক।
শীতের মরশুমে একাধিকবার সিকিম সাদা বরফে ঢেকে যায়। তুষারপাতে প্রকৃতির অসাধারণ এক সৌন্দর্য ধরা দেয় পর্যটকদের কাছে। কিন্তু তাই বলে শরতে এমন দৃশ্য? আইটিবিপি ক্যাম্প পর্যন্ত রাস্তার বড় অংশ বরফে ঢেকেছে। উত্তর সিকিমের গুরুদংমার এলাকাতেও সাদা চাদর দেখা গিয়েছে। অসময়ের বরফে পর্যটক আগমনের সংখ্যা বৃদ্ধির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।বরফ জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় জিরো পয়েন্ট, ছাঙ্গু এবং গুরুদংমারের মতো উঁচু এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। এরই মধ্যে সিকিমের একটা বড় অংশে ভয়াবহ ধস নেমেছে। পশ্চিম সিকিমে ধসের জেরে মাটির তলায় একাধিক বাড়ি চাপা পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও।
বৃষ্টির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সিকিম - দার্জিলিং রুটে। সমতলের প্রধান যোগাযোগপথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।গ্যালসিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে মাটি ধসে পড়ায় রিম্বি–ইয়াকসাম সড়ক এবং সোপাখা থেকে চিওয়াভাঞ্জাং যাওয়ার রাস্তা দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত। পশ্চিম সিকিমের একাধিক রাস্তা বন্ধ।বরদাং এবং ২০ মাইল এলাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ধস নামে।পাকিয়ং জেলার রানিপুল রোড এবং সোরেং জেলার জোরেথাং রোডে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প পথে গাড়ি পাঠাচ্ছে পুলিশ। গত দুদিন ধরে পাহাড়ে যেভাবে বৃষ্টি হয়েছে তাতে মাটি আলগা হয়ে বিপত্তি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কর জানিয়েছেন, জেলার দু’টি জায়গা থেকে ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে।টানা বৃষ্টিতে তিস্তার জলস্তরও অনেকটা বেড়েছে। শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টি চলতে থাকলে নতুন করে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
















